নৌ-প্রটোকলের আওতায় ট্রানজিট সুবিধায় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে হলে পণ্যমূল্যের সমপরিমাণ শর্তহীন ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে ভারতকে। সেই সঙ্গে ট্রানজিট ফি’র বাইরে প্রতি টন পণ্যের জন্য দিতে হবে অতিরিক্ত ৫৮০ টাকা। গতকাল নৌ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ট্রনজিট ফি নির্ধারণের প্রস্তুতিমূলক সভায় এ প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সূত্র জানায়, ১৬ আগস্ট ট্রানজিট ফি নির্ধারণের যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে ভারতকে চিঠি দেয়া হলে চার সদস্যদের প্রতিনিধি দলের নাম পাঠায় ভারত। তবে নির্ধারিত দিনে বৈঠক করার বিষয়ে এখনো কোনো কিছু জানায়নি দেশটি। যদিও এ বৈঠকের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্যই গতকাল নৌ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ওই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হয়। এতে পররাষ্ট্র, যোগাযোগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, এনবিআর ও সমুদ্রপরিবহন অধিদফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বলেন, বাংলাদেশকে ট্রানজিট ফি দিতে রাজি ভারত। এজন্য শিগগিরই আমাদের সড়ক, রেল, নদীপথ, বন্দর ব্যবহারে ফি নির্ধারণের জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ফি নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে গতকালের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ট্রানজিট পণ্যের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত এবং শর্তহীন ব্যাংক গ্যারান্টির প্রস্তাব করেছে এনবিআর। ট্রানজিট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে গেলে অর্থাৎ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে বের হয়ে গেলে ব্যাংক গ্যারান্টির সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেয়া হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), ইউএনসিটিএডি এবং ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) দলিল পর্যালোচনা করে বিষয়টি সংযোজন করা হয়েছে।
এছাড়া ট্রানজিট ফির বাইরে অতিরিক্ত চার্জ বাবদ প্রতি টনে ৫৮০ টাকা বা সাড়ে ৭ ডলার চেয়েছে এনবিআর। অতিরিক্ত চার্জ বাবদ নথি প্রক্রিয়াকরণে ১০ টাকা, ট্রান্সশিপমেন্ট বাবদ ২০ টাকা, স্ক্যানিংয় বাবদ ৩০০ টাকা, মার্চেন্ট ওভারটাইম ৪০ টাকা, নিরাপত্তা বাবদ ১০০ টাকা, পণ্য নিরাপদে পৌঁছে দেয়া বাবদ (এসকর্ট চার্জ) ৫০ টাকা, অটোমেশন সেবা বাবদ ১০ টাকা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা বাবদ ৫০ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে এনবিআর থেকে।
এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আজকে বৈঠকে শুধু এনবিআরের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। একইভাবে সড়ক, রেল, সেতু, সমুদ্রপরিবহন অধিদফতর, বিআইডব্লিউটিএসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের মতামত চাওয়া হবে। এর পর বাংলাদেশপক্ষ আবারো বৈঠকে বসবে।
অসিয়ান কাস্টমস ট্রানজিট ব্যবস্থা পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুধু আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রের দেশগুলোর উত্পাদিত পণ্যই এ সুবিধা পাবে। যে পণ্য আনা-নেয়া করা হচ্ছে, তার ঘোষণা থাকতে হবে। যদি কোনো সংবেদনশীল পণ্য আনা-নেয়ার বিষয়ে কোনো দেশের আপত্তি থাকে, তবে তা প্রটোকল চুক্তির আগেই উত্থাপন করতে হবে। একবার পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট গ্যারান্টি পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক পক্ষের করলেই হবে। তবে একাধিকবার পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট গ্যারান্টি পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক পক্ষের থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পণ্য যেখান থেকে পরিবহন হচ্ছে, সে দেশের সংশ্লিষ্ট প্রেরক এর গ্যারান্টি দেবে। গ্যারান্টি-সংক্রান্ত নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে পণ্যের দামের সমমূল্য নগদ অর্থ সঞ্চিতি রাখতে হবে। এ নগদ অর্থ সঞ্চিতি পণ্য খালাসের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে আবার ফেরত পাওয়া যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে এবং পণ্য প্রেরণকারীর সুনামের ওপর ভিত্তি করে এ নগদ অর্থ সঞ্চিতি কমানো যেতে পারে।


