বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চীনা মুদ্রার প্রভাব পড়েছে অন্য দেশেও

yuan_0-620x264তৃতীয় দফায় চীনা মুদ্রা ইউয়ানের মান কমে যাওয়া যেন বিশ্ব অর্থনীতিতে সূক্ষ্ম রাজনীতিরই ইঙ্গিত দেয়। এর দুর্বল মান চীনাদের জন্য ইতিবাচক হলেও এর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে যেয়ে এরই মধ্যে কমেছে ভারতীয় রুপিসহ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রা মান।

এমনি করে যদি অন্য মুদ্রাগুলোর মানও কমতে থাকে তবে এর রেশ কোথায় যেয়ে ঠেকে তা নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক।

ইউয়ান শুধু চীনাদের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাই নয়, বহুদিন ধরেই এটি পণ্য বিনিময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে বিশ্ব বাজারে। চীনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার আফ্রিকা। এ অঞ্চলের উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ নাইজেরিয়া ২০১১ সাল থেকেই তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলার ও ইউরোর পাশাপাশি জমা রাখছে ইউয়ানও। কারণ দেশটির ধারণা পূর্ব বিশ্বের মুদ্রা ইউয়ান তাদের নিজেদের মুদ্রা নাইরাকে সুরক্ষিত রাখবে।

আফ্রিকার আরেক দেশ কেনিয়া তাদের বন্দরের ক্লিয়ারিং হাউজে ব্যবহার করছে ইউয়ান। এছাড়া এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলো ডলারে পণ্য বিনিময় করলেও তাদের অনেকেই চীনে পণ্য রফতানি করে। তাই চীনাদের এখন থেকে আফ্রিকা থেকে বেশ চড়া দামে প্লাটিনাম, কপার ও কয়লা কিনতে হবে।

ইউয়ানের দুর্বল মানের সুযোগে লাভবানই হবেন ভারতীয় আমদানিকারকরা। বিশেষ করে বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামালের দাম কমায়, কমবে উৎপাদন খরচ। তবে টেক্সটইল এবং কেমিক্যাল পণ্য রফতানিতে ভারতীয়দের পক্ষে চীনাদের টেক্কা দেয়া কঠিনই হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দক্ষিণ আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশ ব্রাজিল ও চীন বিশ্বে একে অপরের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। ইউয়ানের দুর্বল মানের সুযোগে বিশ্ব বাজারে চীনা পণ্যের ছড়াছড়ি দেখা গেলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে ব্রাজিলিয়ান উৎপাদকরা। সেক্ষেত্রে ব্রাজিল যদি তাদের রিয়ালের মান কমাতে শুরু করে তাহলে বিশ্লেষকদের মুদ্রা যুদ্ধের আশঙ্কা সত্যি বলে প্রমাণিত হবে।

তাছাড়া, বিশ্ব অর্থনীতি যখন একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তখন যদি দেশগুলো মুদ্রার মান কমাতে থাকে , তাহলে প্রবৃদ্ধির গতি আবারও মন্থর হয়ে পড়বে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, সামনে ইউয়ানের মান আরও কমবে কি না সে বিষয়ে কোন ধারণা দেয়নি চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে , সেক্ষেত্রে বাজার যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন