বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাড্ডায় ট্রিপল মার্ডার: আসামীর নামসহ মামলা করতে দিচ্ছে না পুলিশ

রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামসু মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে থানায় গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি। বরং তাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

শামসু মোল্লার বোনের স্বামী মো. পলাশ অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত ৮টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত আমরা থানায় মামলা করার জন্য বসে ছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আমাদের মামলা নেওয়া হয়নি। রবিবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত থানায় বসেছিলাম। কিন্তু মামলা নেওয়া হয়নি।’

শামসু মোল্লার পরিবারের অভিযোগ, ‘ওসির সাথে দেখা করতে চাইলে তিনি (ওসি) ঘুমাচ্ছেন বলে ডিউটি অফিসার জানান। আসামিদের নাম উল্লেখ করায় মামলা নেওয়া হচ্ছে না।’

তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমদ।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহত গামার পরিবারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে একটি মামলা হয়েছে, তাই নতুন করে আর মামলার দরকার নেই।’

‘নাম উল্লেখ করেছে বলে মামলা নেওয়া হয়নি, এ অভিযোগ সঠিক নয়। ইতোমধ্যে গামার বাবা বাদী হয়ে ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন। তাই তাদের আলাদা মামলা নেওয়া হয়নি। তবে তাদের আবেদনটি ওই মামলার সঙ্গে ট্যাগ করে দেওয়া হবে। তারা যদি আসামির নাম উল্লেখ করেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব,’ যোগ করেন ডিসি মোস্তাক আহমদ।

তবে পরিবারের দাবি, তারা নাকি গামার পরিবারের আগেই মামলা করতে থানায় গিয়েছিল। তাদের আবেদনে চারজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে ডিসির জবাব, ‘আমিতো সারাদিন থানায়ই ছিলাম, তাদেরকে তো দেখি নাই!’

শামসু মোল্লার পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা মামলার আবেদনে যে চারজনের নাম উল্লেখ করেছি, তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের সবাইকে এলাকাবাসী সন্ত্রাসী হিসেবে চেনে। এরা বাউল সুমনের সহযোগী ছিল। এদেরকে ব্যবহার করেই বাউল সুমন এলাকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপকর্ম করত।’

শামসু মোল্লার বোনের স্বামী মো. পলাশ বলেন, ‘সোহেল রানা, জুনায়েদ হোসেন জুয়েল, রনি ও বিজয়ের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। সোহেল ও ‍জুয়েল বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পরিচয়ে এলাকায় ব্যানার টানিয়েছে।’

হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতদের একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। ৭ জনের বিষয়ে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল সেদিন বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে যদি তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন আমরা ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া তাদের নামের মধ্যে আমাদেরও কয়েকজন সন্দেহভাজন আসামি রয়েছে। সবাইকে আমরা নজরদারিতে রেখেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারব।’

ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় ৫১ ঘণ্টা পর শনিবার রাত ১২টার দিকে নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. মাহবুবুর রহমান গামার বাবা মো. মতিউর রহমান বাদী হয়ে ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার বিষয়ে ডিসি মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামার বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মধ্যবাড্ডার আদর্শনগর পানির পাম্পে বসে আলোচনার সময় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুরুতর আহত হন গামা ও তার সঙ্গে থাকা ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামসু মোল্লা, স্থানীয় ক্লিনিকের ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ মানিক। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন মারা যান গামা।

আরও পড়ুন