বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসেও শোক দিবসে মারামারি: গ্রেফতার ২

FIGHTING_AT_EMBASSY_SHOK_DIBOSHবঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকীর জাতীয় শোক দিবসে গোলাগুলিতে বাংলাদেশে একজনের মৃত্যু ছাড়াও ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনার পাশাপাশি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশে দূতাবাসে মারামারি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।  এ সময় একপক্ষের চেয়ারের বাড়িতে মাথা কেটে গেছে এক যুবলীগ নেতার। পুলিশ এসে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে দুইজনকে। এদের একজনের নাম জি আই রাসেল এবং তিনি হচ্ছেন ভার্জিনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আহত যুবলীগ কর্মী রাজুকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে ।

জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দূতাবাস ভবনে ‘বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে’ ১৫ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যায় এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় উপস্থিত সুধীজন বিস্ময়ে হতবাক হন। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যথারীতি অবশিষ্ট অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর সকলের মধ্যে তবারক বিতরণও করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজনেরা ছিলেন এ অনুষ্ঠানে। মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছু চলছিল। আলোচনার এক পর্যায়ে ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট শেখ সেলিম কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, ‘কয়েক মাস আগে পর্যন্ত যারা জামাত-বিএনপির কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে জড়িতদের যারা এই ওয়াশিংটন ডিসিতে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, তারাও এখন বঙ্গবন্ধুর দরদী সেজেছেন এবং এই অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ পেয়েছেন।’ শেখ সেলিম আরো অভিযোগ করেন, ‘দিনে আওয়ামী লীগ এবং রাতে জামাত-শিবির-বিএনপির সাথে দহরম-মহরম করেন, তারা এখন এই ওয়াশিংটন মেট্র এলাকায় আওয়ামী রাজনীতির কর্ণধারে পরিণত হয়েছেন। এমন বর্ণচোরাদের চিহ্নিত না করার খেসারত দিয়েছেন জাতিরজনক নিজের জীবনের মধ্য দিয়ে।’ শেখ সেলিমের এ ধরনের বক্তব্যে আপত্তি জানান যুবলীগের একজন কর্মী। এবং এথেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের নেতা-কর্মীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে ।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন। কূটনৈতিক এলাকায় সার্বক্ষণিক টহলরত পুলিশ দ্রুত সেখানে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পুলিশ আসার আগেই যুবলীগের একজনের মাথা ফেটে যায় আরেকজনের চেয়ারের আঘাতে। তার নাম রাজু। তাকে পুলিশের এ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’ এরফলে শোক দিবসের অনুষ্ঠানের মেজাজ আর অটুট ছিল না বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি শামীম আহমদ বলেন, “১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দূতাবাস ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একজনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করলে পরে বাকি অনুষ্ঠান হয়।”

চেয়ারের আঘাতে মাথা কেটে যাওয়ায় যুবলীগ কর্মী রাজুকে স্থানীয় হাওয়ার্ড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আর ভার্জিনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি আই রাসেল এবং ওয়াশিংটন মেট্রো আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাদেক খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদের মধ্যে রাসেল প্রতিপক্ষের কিল-ঘুষিতে আহত হওয়ায় তাকে পুলিশ হেফাজতে জর্জ ওয়াশিংটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে কর্মরত সাংবাদিক হারুন চৌধুরী বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় প্রাবসীদের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছু চলছিল। আলোচনার এক পর্যায়ে মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। পরে তা হাতাহাতি ও মারিমারিতে গড়ায়।

শেখ সেলিম তার বক্তব্যে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, “কয়েক মাস আগ পর্যন্ত যারা জামায়াত-বিএনপির কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন, যারা এই ওয়াশিংটন ডিসিতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, তারাও এখন বঙ্গবন্ধুর দরদী সেজেছেন এবং এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন।”

এ সময় যুবলীগের এক কর্মী আপত্তি জানালে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা চিৎকার চেচামেচি এবং পরে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু করেন বলে হারুন চৌধুরী জানান।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সামল দিতে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন। কূটনৈতিক এলাকায় সার্বক্ষণিক টহলে থাকা পুলিশ অনুষ্ঠানস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ওয়াশিংটন মেট্রো আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা শিব্বির আহমেদ বলেন, “যারা কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন না, তেমন কয়েকজনকে নিয়ে সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মহিলা আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের কমিটি গঠনের পর চাপা উত্তেজনা চলছিল। দূতাবাসের অনুষ্ঠানে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটল।”

এ অনুষ্ঠান শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত সবার বুকেই ছিল শোকের কালো ব্যাজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আনিস আহমেদ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ওপর লেখা একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এরপর ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক সরকার কবীরুদ্দিন বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন