বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ নিহত ৭

Pakistan-Panjabপাকিস্তানে শক্তিশালী আত্মঘাতী হামলায় নিহত হলেন পঞ্জাব  প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুজা খান্দজার। রবিবার শাদি খাল গ্রামে সুজার বাড়িতে হামলা চালায় মানববোমা। সুজা ছাড়াও আরও সাতজন বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যান। রাওয়ালপিন্ডির কমিশনার জাহিদ সঈদ বলেছেন,  মন্ত্রীর বাড়িতে মানববোমা হামলায় আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত হয়েছেন ডিসিপি শওকত শাহ। জখম হয়েছেন অনেকে।

ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিমি দূরে শাদি খালের বাড়িতে জিরগা (স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সালিশি বৈঠক) বসিয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সুজা। সেখানে নিরাপত্তার ফাঁক গলে ঢুকে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতী জঙ্গি। পঞ্জাব পুলিশের আইজি মুস্তাক সুখেরা জানিয়েছেন, সুজার নিরাপত্তারক্ষীরা সেখানে ছিলেন। কিন্তু তাঁদের ফাঁকি দিয়েই ঢুকে পড়ে মানববোমা।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়িটি ভেঙে পড়ে। তার নীচে চাপা পড়ে যান অনেকে। আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ির জানালার কাচ ভেঙেছে। ধ্বংসস্তুপের নীচে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে জোরকদমে।

বিস্ফোরণের ধাক্কায় কার্যালয়ের ছাদ ভেঙে পড়ে। সুজার ছেলে সোহরাব খান্দজা জিও টিভি-কে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় তাঁর বাবা রাজনৈতিক কার্যালয়ের ভিতরেই ছিলেন। ২০-২৫ জনের সঙ্গে তিনিও ভেঙে পড়া কার্যালয়ের ধ্বংসস্তুপের নীচে আটকে পড়েন।

পঞ্জাবের আইনমন্ত্রী রানা সানাউল্লা সাংবাদিকদের বলেন, যে হলঘরে বৈঠক  চলছিল, সেখানে মন্ত্রীসমেত তিন ডজন লোকজন ছিলেন। সকলেই তার নীচে চাপা পড়ে যান। মন্ত্রীর ঘোষণা, শেষ জঙ্গিটি বেঁচে থাকা পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

২০১৪-র অক্টোবরে সুজাকে পঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র দফতরের ভার দেওয়া হয়।দায়িত্ব নিয়েই তিনি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে চালানো বেশ কিছু বড় অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা নেন।তাঁর জেরেই কি আজকের এই নাশকতা, প্রশ্ন উঠেছে। তাঁকে ইতিমধ্যে খুনের হুমকি দিয়েছিল আল কায়েদা, তেহরিক-ই-তালিবান। সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেন, লাহোরের উপকণ্ঠে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে আল কায়েদা, পাকিস্তানের প্রধান ও তার সঙ্গীরা।

আরও পড়ুন