দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার আজ ১০ বছর পূর্তি আজ। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের ২০০৫ সালের এই দিনে সারাদেশের ৬৩টি জেলার পাঁচশ’রও বেশি স্থানে সিরিজ বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। কথিত ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ওইদিন আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-আধা সরকারি স্থাপনায় জেএমবি জঙ্গিরা একযোগে বোমা হামলা চালায়। সেদিনের হামলায় নিহত হন দুজন। আহত হয়েছিল দুই শতাধিক মানুষ।
জেএমবির বোমা হামলার দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬১টি মামলা হয়। এর মধ্যে বিচার শেষ হয়েছে ১শ ৩টি মামলার। এসব মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১শ’ ১৮ জনের যাবজ্জীবন ও ১শ ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এখনও বিচারাধীন রয়েছে ৫৮টি মামলা। ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট দেশজুড়ে জেএমবি’র সিরিজ বোমা হামলার দশ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি সবগুলো মামলার বিচারকাজ। কেন বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতা? এমন প্রশ্নের উত্তরে মহানগর পিপি জানান, তদন্তকারী সংস্থাগুলো সময় মতো সাক্ষী হাজির করতে না পারায় দীর্ঘায়ত হচ্ছে বিচার কাজ। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলছে, সাক্ষীদের অনেকেই ঠিকানা পরিবর্তন করায় সময়মতো হাজির করা যায় না তাদের।
২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট। মুন্সিগঞ্জ বাদে দেশের ৬৩টি জেলার ৫০৩টি স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছিলো জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবি। মূলত নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়া, আলোচনায় আসা এবং ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছিলো এই বোমা হামলা। প্রতিটি বিস্ফোরণস্থলে পাওয়া গিয়েছিলো জেএমবির লিফলেট। এই ঘটনায় দু’জন মারা গেলেও আহত হয়েছিলেন বহু মানুষ।
১৭ই আগস্ট বোমা হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে মামলা হয়েছিলো ১৬১টি। এর মধ্যে বিচার কাজ শেষ হওয়া ১০২টি মামলায় ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৪৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং খালাস দেয়া হয়েছে ১১৮ জনকে। আর ৬৬০ জন আসামির মধ্যে পলাতক ৫৩ এবং জামিনে রয়েছেন ৩৫ জন। মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘প্রধানত সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে এই বিচারটি হচ্ছে না। যিনি তদন্ত করবেন তার উচিত হবে যাকে সাক্ষী মানা হবে তার স্থায়ী ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে।’
গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই সময় যারা ঘটনাস্থলের আশেপাশে ছিল এবং ঘটনাটি দেখেছে তারা সাক্ষী হয়েছে। তারা অনেকে ঠিকানা পরিবর্তন করে হয়ত চলে গিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাক্ষী হাজির করার দায়িত্ব অবশ্যই পুলিশের। পুলিশ এ কাজটি করেও থাকে।’ গত কয়েক বছরে জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতার বিচার কাজ শেষ ও রায় কার্যকর হলেও এখনো তৎপর এই জঙ্গি সংগঠনটি। সুযোগ পেলে তারা আবারো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে বলে মত র্যাব পুলিশের।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘জঙ্গিবাদ যাতে এদেশে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সে ব্যাপারে সব ধরণের পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। এবং আমরা বিশ্বাস করি জেএমবি’র মত সংগঠন যারা একসময় সারাদেশে যেভাবে নাশকতার সৃষ্টি করেছিল তাদের পক্ষে পুনরায় আবার এরকম নাশকতা করা সম্ভব নয়।’ তারা আরও বলেন, জঙ্গিবাদ বিষয়ে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদের বিস্তারে তারা নতুন করে উৎসাহিত হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


