মু্ক্তিযুদ্ধে ১৪ জন স্বজন হারানো প্রবীণ সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েফরিদপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার তাকে ফরিদপুর ১ নং আমলি আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি না করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামীকাল (মঙ্গলবার) রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর মুনির হোসেন প্রবীর সিকদারের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। রোববার রাতে পত্রিকার অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর ঢাকা থেকে ফরিদপুরের নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
জীবনহানীর আশঙ্কা প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিক প্রবীর শিকদারের বিরুদ্ধে ফরিদপুরে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন এডভোকেট স্বপন পাল। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ফরিদপুর পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলাটি করেছেন ফরিদপুরের এপিপি স্বপন কুমার পাল।
রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেরে বাংলা নগর থানার এসআই জলিলের নেতৃত্বে একদল সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়। তখন তিনি তার নিজ দৈনিক বাংলা ৭১ ও অনলাইন পত্রিকা উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ এর অফিসে কাজ করছিলেন। এরপর তাকে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়। পরে গভীর রাতে তাকে নিয়ে ফরিদপুর রওয়ানা হয় পুলিশ।
২০০১ সালে দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকাকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় মারাত্মক আহত হন তিনি। সেসময় একটি পা হারান প্রবীর সিকদার। এরপর দেশে বিদেশে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দৈনিক সমকালে যোগ দেন প্রবীর সিকদার। এরপর তিনি কালেরকন্ঠে যোগ দেন।
বর্তমানে তিনি একটি দৈনিক ও একটি অনলাইন পত্রিকা চালান। জনকণ্ঠে থাকাকালীন তিনি ‘তুই রাজাকার’ শিরোনামে একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেই প্রতিবেদেন তিনি বিশেষ কিছু ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে লেখার কারণে তার উপর হামলা হয়।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


