বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক: খুব শিগগির ভারত সফর

নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংক্ষিপ্ত সফরে নয়াদিল্লি যাওয়া শেখ হাসিনা বুধবার দুপুরে রেসকোর্স রোডে মোদির বাসভবনে যান; সেখানেই পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে বসেন দুই নেতা। ঢাকায় গত ৬ জুনের পর এটি দু’প্রধানমন্ত্রীর দেখা হলো।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দুই নেতার মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।  স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে দুই নেতা তাদের সন্তুষ্টির কথাও আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এজন্য ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। এই সময় নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার আনুষ্ঠানিক ভারত সফরে আসার আমন্ত্রণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, খুব শিগগির তিনি দিল্লি সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা করেন, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিসহ দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।

আধ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। আরও থাকেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ঝটিকা সফরে বুধবার ১৯ আগস্ট সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর ওই বৈঠক করতে নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নরেন্দ্র মোদির ৭ রেস কোর্স রোডের (আরসিআর) বাসভবনে ওই বৈঠক হয়।

বুধবার সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সোয়া ৮টা) দিকে ইন্দিরা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী।

বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ভবনে যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখা করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে। সেখানে কিছুটা সময় কাটান ও প্রণব মুখার্জিকে সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সফরে সঙ্গী হন ছোটবোন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। আরও থাকেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রেসসচিব ইহসানুল করিম ও বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল।

প্রেসসচিব ইহসানুল করিম জানান, রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জির বাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী। ১৩ তাল কাটরা রোডের ওই বাড়িতেই ছিল শুভ্রা মুখার্জির মরদেহ। পরে লোদি রোড ক্রেমেটোরিয়ামে আয়োজিত শেষকৃত্যে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্মশানে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় সেখানে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভাইস প্রেসিডেন্ট হামিদ আনসারি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা এলকে আদভানি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর হোটেল তাজ প্যালেসে অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে স্থানীয় সময় দুপুর ৩টায় হোটেল ছেড়ে বিমানবন্দরের পথ ধরেন তিনি। ঢাকার সময় সন্ধ্যা ৬টায় দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

আরও পড়ুন