বাংলা ও অন্যান্য ভাষার উপকথাগুলোর শেষাংশগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি সুন্দর উপসংহারের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। উপকথা বা লোককাহিনী শোনেনি এমন কাউকে খুজে পাওয়া যাবে বলে মনে করিনা। উপকথাগুলোর শুরু হয় নানা অত্যাচার অবিচারের কাহিনীর মধ্য দিয়ে। সেখানে থাকে সুয়ো রানী, দুয়ো রানী এবং কৌটিল্যসম উজির এর সঙ্গে থাকে কোটাল বা অন্যান্যরা। নানা যুদ্ধবিগ্রহ এবং ঘটনার পরিসমাপ্তিতে দেখা যায় ‘অত:পর তাহারা সুখে শান্তিতে বাস করিতে থাকিলো’। সম্প্রতি প্যারিসের বাংলাদেশী বিনোদনহীন সমাজে এরকম একটি উপকথা’র চমৎকার দৃশ্যায়ন উপভোগ করেছেন অনেকেই।
গতমাসে প্যারিস তথা ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে যারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে পদচারনা করেছেন তাদেরই কিয়দংশ তড়িঘড়ি সাবেক পড়ুয়াদের একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশের ঘোষনা দিয়েছিলেন। পাচজনের তথাকথিত সে সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পাচদিনের মধ্যে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনগুন বেশী সাবেক ছাত্রদের নিয়ে অধিকতর গণতান্ত্রিক পদ্ধতি আশ্রয়ী অপর একটি সংগঠনের আহবায়ক কমিটি’র আত্মপ্রকাশ প্যারিসবাসী অবলোকন করেছিলো। এর কিছুদিন পর সে সংগঠনটি পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করে। এ বাসী খবর পরিবেশনের কারনে অধিকাংশ পাঠকেরই ধৈর্য্যচ্যুতি হবার কথা।সে জন্য ক্ষমা চেয়ে খবরের ভেতরের খবর বিশ্লেষন করার প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করছি।
সচেতন পাঠকরা আশাকরি বুঝে ফেলেছেন পুরো সংবাদটির অন্তর্নিহিত বিষয়টি। সবার জন্য একটু সহজ করতে গেলে বলতে হয়, বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো করা কমিটি এবং হাকডাক দিয়ে করা কমিটি দুটোর মধ্যেই এক অদ্ভুত সাযুজ্য খুজে পাওয়া যায়। দুটো কমিটিই সভাপতি, সাধারন সম্পাদক সহ কমিটির অন্যান্যদের মাঝে উপদেষ্টা নামক কিছু পদের সৃষ্টি করেছেন। উপদেষ্টারাও তাদের মতোই সাধারন ও সাবেক ছাত্র। তফাত এটুকুই কোন এক অজ্ঞাত কারনে উনারা মুল কমিটিতে থাকতে চাননি বা রাখা হয়নি। সাযুজ্য বা মিল বলার কারন দুটো কমিটিতেই উপদেষ্টা পদে দুজন ব্যক্তির নাম রয়েছে। নাম উল্লেখ না করলেও পাঠকদের বুঝতে অসুবিধা হবেনা কোন দুজন ব্যক্তি দুটো কমিটিরই উপদেষ্টা পদে আছেন। যেহেতু পরবর্তী সংগঠনটির উপদেষ্টাসহ নির্বাহী কমিটির ঘোষনা দেয়ার পর সে দুই ব্যক্তি উপদেষ্টা পদে থাকার বিষয়ে কোন বিবৃতি দেননি তাই ধরে নেয়া যায় উনাদের সম্মতি রয়েছে। এক ব্যক্তি পরস্পরবিরোধী দুটো সংগঠনের উপদেষ্টা পদে থাকার বিষয়টি কতোটুকু নৈতিক তা বিবেচনার দাবী রাখে। আপাতদৃষ্টিতে উনারা কোন প্রতিবাদ বা অবস্থান ব্যাখ্যা না করায় এটা ধরে নেয়া যায় যে পুর্বের তড়িঘড়ি সম্পাদিত কমিটিটি বিলীন হয়ে গেছে। কমিটিতে একই উপদেষ্টা থাকায় বিতর্কের ও অবসান হবে।একটি সুন্দর পরিসমাপ্তি সকলেই কামনা করেন। উপদেষ্টাদের ত্যাগের মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে বলে ধারনা করি।
পুনশ্চ : বিলীন হওয়া কমিটির এক নেতা সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায়ভার বহনে অক্ষম হয়ে এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা সমিতিতে নেমতন্ন পাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে বাজারে জোর গুজব রয়েছে। উনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে অনুষ্ঠানগুলোতে আমন্ত্রন না পাবার জন্য দু:খ প্রকাশ করেছেন বলে শোনা গেছে। অপর এক নেতার বিরুদ্ধে রেস্তোরায় কাজ করার সময় মুল্য পরিশোধ বাবদ দেয়া রেস্তোরার টিকেট অবৈধভাবে বিক্রির অপরাধে জেল খাটার মতো পুরনো থবরও বাজারে ভেসে বেড়াচ্ছে।
ইউরোপ ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



