প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ময়মনসিংহ শহর রক্ষা বাঁধ মেরামতে উদ্যোগ না নেয়ায় সেখানে বসবাসকারীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। টানা বৃষ্টিতে আবারও ভাঙ্গনের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। আর পৌর মেয়রও জানান, বাঁধে ব্যাপক ভাঙনের কারণে জয়নুল পার্কসহ বহু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। অবশ্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ময়মনসিংহ শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৬টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি স্থানে বাঁধ ধসে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্তের। এতে বাঁধের পাশের ঘরবাড়ি-সীমানা প্রাচীর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও বাঁধ মেরামত না করায় আতংকে রয়েছেন পাশে বসবাসকারী মানুষেরা।
এলাকাবাসীরা জানান, বাঁধ নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমরা এখন হুমকির মুখে রয়েছি। ভাঙ্গন প্রতিরোধে কেই ব্যবস্থা নেয়নি। জেলা নাগরিক আন্দোলনের নেতাদের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি ও ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর পৌর মেয়রও জানালেন, বাঁধে ব্যাপক ভাঙ্গনের কারণে জয়নুল পার্কসহ বহু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে।
জেলা নাগরিক আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, ‘নিম্নমানের কাজের ফলে এটি ধ্বংসের পথে। অবহেলা-অযত্নে এটি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।’ পৌরসভা মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু জানান, ‘আমরা বাঁধ রক্ষণাবক্ষণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। অবিলম্বে বাঁধটি নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
অবশ্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান,বাঁধরে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মুসা বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে সবগুলোই মেরামত করা হবে।’ ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম ব্রিজ থেকে খাগডহর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ তীরের প্রায় ১২ কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধরে ৮ কিলোমিটার নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১২ সালে।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


