ঋণ সংকটে জর্জরিত গ্রিস এবার বেকায়দায় পড়েছে অভিবাসন সমস্যা নিয়ে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর বলছে, চলতি বছর এখনো পর্যন্ত দেশটিতে সাগরপথে অবৈধ অভিবাসী এসেছে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার।
এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটে থাকা গ্রিসে এবার সৃষ্টি হতে পারে মানবিক সংকট- এমন আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। যা এড়াতে গোটা ইউরোপের সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।
সমুদ্র উপকূলে ভাসছে ছোট্ট নৌকা। গ্রিসের সাগর পাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য কোনো প্রমোদ ভ্রমণের নয়। এমনি করেই নিজ দেশ ছেড়ে ভাগ্য বদলের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে আসছেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশটিতে হাজির হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার অবৈধ অভিবাসী।
এমন অভিবাসীদের অধিকাংশই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার শরণার্থী। মানবিক সঙ্কট ও নিপীড়ন থেকে আশ্রয় খুঁজছে তারা। কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা গ্রিসে জীবিকার কোনো সুযোগ হয়নি ভাগ্যান্বেষী এসব মানুষের। চলছে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত অসহায় জীবনযাপন। এমন মানবিক বিপর্যয়ে থাকা অভিবাসীদের আশ্রয়স্থল গ্রিসও ভুগছে আর্থিক সংকটে। অর্থনীতির পতন ঠেকাতে নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে দাতা সংস্থার কঠোর শর্তের মধ্যে রয়েছে দেশটি। রয়েছে ব্যয় সংকোচন নীতি নিয়ে জন অসন্তোষও। তাই অভিবাসীদের এমন ঢল নতুন করে বিপাকে ফেলেছে সিপরাস সরকারকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেকার সমস্যা বাড়িয়ে তোলাসহ দেশটিতে বাড়ছে সামাজিক অপরাধের ঝুঁকিও। সমস্যা সমাধানে অভিবাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও অর্থ সংকটে যা বাস্তবায়ন হয়নি। অভিবাসী সংকট এড়াতে পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি বলেও মনে করছেন তারা। আবহাওয়া শান্ত থাকায় সাধারণত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সাগর পাড়ি দেয়ার হার বেড়ে যায়। তাই অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা সামনে আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


