শোক দিবসের অনুষ্ঠানে শুক্রবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ছুরিকাঘাতে নিহত যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামের লাশ নিয়ে মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
শনিবার ২২ আগস্ট দুপুরে উপজেলার সাহেব বাজার বাইপাস মোড়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী লাশ নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক মিছিল করে।
এতে ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে বলে জানান কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. ওমর ফারুক।
শুক্রবার বিকালে ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণসভায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর শনিবার সকালে দলীয় নেতা-কর্মীরা ও পরিবারের লোকজন লাশ সাহেব বাজার বাইপাস মোড় এলাকায় তার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর লাশ নিয়ে মহাসড়কে নামে তারা।
ওসি বলেন, “দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশের বাইপাস এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মাঝখানে লাশ রেখে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা মিছিল করতে থাকে।”
পুলিশ গিয়ে বুঝিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দিলে তারা কফিনসহ মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর বাজার এলাকার দিকে যায়।
নিহতের বড় ভাই মো. আব্দুল মোতালেব বলেন, “প্রকৃত খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
শুক্রবার বিকালে ওই হত্যাকাণ্ডের পর জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের জানাই ছিল না, এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এমন কিছু চোখে পড়েনি, যার জন্য একজনকে মেরে ফেলতে হবে।”
খুনিরা যাতে দ্রুত গ্রেপ্তার হয় তার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।


