একটি জঙ্গি সংগঠনকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আইনজীবী। পরে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিচারিক আদালতের হাকিম সাজ্জাদ হোসেন রবিবার ২৩ আগস্ট এ আদেশ দেন।
চার দিনের রিমান্ড শেষে আইনজীবী শাকিলা ফারজানা, মো. হাছানুজ্জামান ও মো. মাহফুজ চৌধুরীকে সকালে আদালতে হাজির করা হয়। জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে এই তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
বাঁশখালী আদালতের সরকারি কৌঁসুলি বিকাশ রঞ্জন ধর নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে বলেন, পরোক্ষভাবে আসামিরা দোষ স্বীকার করেছেন।
আদালত প্রাঙ্গণে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সাত্তার নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে বলেন, ‘আসামিদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। র্যাব তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে সরাসরি বিচারকের খাসকামরায় নিয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী আসামিদের সঙ্গে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাঁদের নির্যাতন করা হয়েছে কি না আইনজীবীরা জানতে চাইলে তাঁদের চোখে শুধু পানি ঝরেছে। এ থেকে বোঝা যায়, আসামিরা নির্যাতনের স্বীকার এবং তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সাত্তার আরও বলেন, ‘একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি তাঁর যেকোনো মক্কেলকে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা ফেরত দিতে পারেন। তিন আইনজীবী হেফাজতের মামলা পরিচালনার জন্য টাকা নিয়েছিলেন। পরে ফেরত দেন। এতে দোষের কিছু নেই।’
আবদুস সাত্তার আরও দাবি করেন, যেকোনো আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিক বা না দিক তাকে পুলিশ হেফাজতে দেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু বাঁশখালীল মামলায় আসামিরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিদের হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে র্যাব। একই সঙ্গে র্যাব এ শুনানির জন্য আসামিদের চট্টগ্রাম আদালতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চান। পরে আদালত আসামিদের সরাসরি কারাগারে পাঠান।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব দাবি করে, ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’ নামের চট্টগ্রামভিত্তিক নতুন জঙ্গি সংগঠনের জন্য সংগৃহীত ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আইনজীবী ১ কোটি ৮ লাখ টাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে শাকিলা দুই দফায় ২৫ লাখ ও ২৭ লাখ করে মোট ৫২ লাখ টাকা, মো. হাছানুজ্জামান ৩১ লাখ টাকা এবং মাহফুজ চৌধুরী ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


