দূরপাল্লার যানবাহন ছাড়ার আগে যাত্রীদের ভিডিও করে ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি পরিবহন মালিকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এ্যান্ড অপস) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান।
রাজধানীর গাবতলীতে বিবিটিওএ’র প্রধান কার্যালয়ে এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। অজ্ঞান ও মলম পার্টি প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক এ আলোচনা ও মতবিনিময় সভা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
মারুফ হাসান বলেন, আসন্ন ঈদে যাত্রীদের পরিবহনে উঠানোর পর ভিডিও করার পাশাপাশি তাদের অজ্ঞান ও মলম পার্টি সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে। প্রতিটি পরিবহনে জনসচেতনতামূলক অডিও-ভিডিও ডকুমেন্ট করে যাত্রীদের দেখাতে ও শোনাতে হবে। বাসে বাসে অজ্ঞান ও মলম পার্টি সম্পর্কে সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ করতে হবে। এ কাজ পুলিশ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যৌথভাবে করবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদুল আযহা উপলক্ষে টার্মিনালগুলোতে ভ্রাম্যমাণ হকার প্রবেশ নিষেধ করা প্রয়োজন। কারণ তাদের মধ্যে অনেকে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্য থাকে। অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের এখন প্রতিরোধ করতে না পারলে এ চিত্র ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করবে।
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, পুলিশ-পাবলিক পার্টনারশিপে কাজ করতে হবে। পুলিশ-পাবলিক পার্টনারশিপে এ পর্যন্ত যে কয়টি অপরাধ রুখে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে, সে অপরাধগুলো প্রতিরোধ করা গেছে। এ জন্য সবসময় নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ পুলিশের একার পক্ষে অজ্ঞান ও মলম পার্টির চক্রকে প্রতিরোধ করা সম্ভব না। তারা তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেককে আমরা আইনের আওতায় এনেছি। কিন্তু অনেকে এরই মধ্যে জামিনে বের হয়ে ফের অপতৎপরতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।
কিছু অপরাধ মৌসুমি। অজ্ঞান ও মলম পার্টি কিছু কিছু উৎসবের মওসুমকে টার্গেট করে মাঠে নামে। আমরাও প্রস্তুত রয়েছি। তবে এ কাজে জনসাধারণের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ডিএমপির মিরপুর জোনের ডিসি মো. কাইয়ুমুজ্জামান খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. মফিজুল হক ও বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. ফারুক তালুকদার সোহেল।


