
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাজধানীর হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া নিহত হওয়ার পর এবার র্যাব-২ এর পরিচালক লে. কর্নেল মাসুদ রানাকে বদলি করা হয়েছে। রবিবার ২৩ আগস্ট র্যাব-২ এর এই পরিচালককে বদলি করা হয়। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সোমবার এ তথ্য জানিয়ে বলেন, লে. কর্নেল মাসুদ রানাকে র্যাব-২ থেকে বদলি করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর হাজারীবাগে চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আটক থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া গত ১৭ আগস্ট ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন বলে দাবি করেছে র্যাব।
হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়াকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে র্যাব-২ এর অধিনায়কসহ চারজনের বিরুদ্ধে রবিবার ২৩ আগস্ট মামলা দায়ের করা হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের আদালতে রবিবার আরজু মিয়ার বড় ভাই মাসুদ রানা মামলাটি দায়ের করেন। আদালত নথি পর্যালোচনা করে ২৫ আগস্ট এই ব্যাপারে সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন আদালত।
মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন- র্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাসুদ রানা, র্যাব-২ এর ডিএডি শাহেদুর রহমান ও পরিদর্শক ওয়াহিদ এবং র্যাব-২ এর সোর্স রতন।
মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, ১৭ আগস্ট হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যায় র্যাব। তাঁকে হত্যা করে শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনে লাশ ফেলে রাখা হয়। র্যাব ১৯ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, আরজু ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন। অভিযোগে বলা হয়, ১৭ ও ১৮ আগস্ট ঘটনাস্থলে কোনো ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেনি। আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আরজুকে তুলে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে লাশ ফেলে রাখে।
১৭ আগস্ট র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া নিহত হন।
মোবাইল চুরির অপবাদে স্থানীয় এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আরজুকে গ্রেফতার করার পরদিনই এই ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে আরজু মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনাটি মানতে পারছেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাও। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে হাজারীবাগের আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে আরজুকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা এ ‘হত্যা’র সঙ্গে জড়িত র্যাব সদস্যদের শাস্তি দাবি করেন।
হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়াকে র্যাব ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস। বুধবার দেশের প্রথম শ্রেণির একটি গণমাধ্যমের কাছে তিনি এ দাবি করেন।
তাপস বলেন, “আরজু নিরীহ-নিরপরাধ ছেলে। তাকে র্যাব ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছে। আরজুর কোনো অপরাধ থাকলে তার জন্য আইন ছিল, বিচার হতো। কিন্তু এ রকম একটা ছেলে, যার কোনো ব্যাড রেকর্ড নাই, কোনো মামলা-জিডি পর্যন্ত নাই, সেই ছেলেটাকে ধরে নিয়ে গিয়ে সকালবেলায় মেরে দিল। এটা কোনো কথা হতে পারে?”
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে র্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন আরজু মিয়া (২৮)। গত সোমবার রাজা মিয়া (১৬) নামের এক কিশোরকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে আরজু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। রাজা মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আরজু মিয়া।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


