বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতে শেয়ারবাজারের বড় ধস

IndianStockExchangeEPA460ভারতের মুম্বাইয় শেয়ারবাজারে গত সাত বছরে সর্বাধিক পতন সেনসেক্সের। নামল নিফটিও। মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৭ লক্ষ কোটি টাকা। শেয়ার বাজারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পায় টাকার দামও। মার্কিন ডলারের তুলনায় এদিন টাকার মূল্য গত ২ বছরে সবচেয়ে কমে দাঁড়ায় ৬৬.৪৯। পরিস্থিতি সামাল দিতে এদিন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর রঘুরাম রাজন ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।

মুম্বই শেয়ার বাজারে এধরনের ধস শেষবার নেমেছিল ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে। তারপর দীর্ঘ ৭ বছর পর ফের হুড়মুড়িয়ে পড়ল ভারতের শেয়ার বাজার। সোমবার সকালে বাজার খুলতে না খুলতেই দুই শেয়ার সূচক সেনসেক্স ও নিফটি, রেকর্ড হারে পড়তে শুরু করে। গত কয়েক বছরে এতখানি ধস নামেনি ভারতীয় শেয়ার বাজারে।

এদিন দালাল স্ট্রিটে শেয়ার বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যে ৫.৯৪ শতাংশ পড়ে যায় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স। এক সময় ১৭৪১ পয়েন্ট পড়ে সেনসেক্স। দিনের শেষে তা সামান্য ঘুরে দাড়িয়ে ১৬২৪.৫১ পয়েন্ট নীচে থেমে দাঁড়ায় ২৫,৭৪১.৫ পয়েন্টে। একই হাল হয় ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি-রও। ৪৯১ পয়েন্ট পড়ে তা ৮ হাজারের নীচে নেমে গিয়ে বন্ধ হয় ৭,৮০৯ পয়েন্টে।

এদিনের ধসের ফলে ভারতের অর্থনীতিতে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। যার জেরে দেশের শেয়ার বাজারে মোট লগ্নির পরিমাণ ১০০ লক্ষ কোটির নীচে নেমে আসে। এদিকে, শেয়ার বাজার ধসের জেরে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বেচতে শুরু করে দেওয়ায় ডলারের তুলনায় টাকার দাম চড়চড় করে পড়তে থাকে। টাকার দাম দাঁড়ায় ৬৬ টাকা ৪৯ পয়সায়। গত দু’বছরে এটিই সর্বনিম্ন টাকার দাম। এদিকে, শেয়ার বাজারে ধস ও টাকার দামের এই আকস্মিক হ্রাসে দাম পড়েছে রুপোর।

কিন্তু, আচমকা শেয়ার বাজারে এই ধস কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে চিনের শেয়ার বাজারে ধস। বিশ্ব জুড়ে শেয়ার বাজারে অস্থিরতার মধ্যে লগ্নিকারীদের দুশ্চিন্তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনা অর্থনীতির ব্যাঙ্কিং শিল্পে নগদের সঙ্কট। বেশ কিছুদিন ধরে নগদের সঙ্কটে নাজেহাল চিনের ব্যাঙ্কিং শিল্প। আন্তঃ ব্যাঙ্ক ঋণের বাজারে সুদ আকাশছোঁয়া।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে চিন তার মুদ্রা ইউয়ানের দাম কমানোয় বিশ্ব জুড়ে আর্থিক ব্যবস্থায় টালমাটাল অবস্থা। ফলে, কয়েকদিন আগেই ক্ষেপে ক্ষেপে চিনের মুদ্রা হাস করা হয়। ডলারের তুলনায় ইউয়ানের দাম প্রায় ১.৯ শতাংশ পড়ে যায়। এশিয়ার বাজারে তার ছাপ পড়ায় এই ঘটনা।

এছাড়াও, ভারতে আমদানির তুলনায় রফতানি তেমন না হওয়ায় চলতি বছরে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ বিশাল। তাছাড়াও, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ারও বেশ কিছুটা ছাপ পড়েছে শেয়ার বাজারে। শুধু ভারত নয়, এশিয়াজুড়ে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। ৮ শতাংশ পড়েছে সাংহাইয়ের শেয়ার। একইভাবে প্রভাব পড়েছে ভারতীয় অর্থনীতিতেও। এই সমস্যা শুধু এশিয়ার বাজারেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববাজারেও।

গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে আশ্বাস দেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর রঘুরাম রাজন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ ৩৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া ফরোয়ার্ড বিক্রির ফলে আরও ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ভারতের হাতে রয়েছে। ফলে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আশার আলো দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারও। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির দাবি, দেশে মুদ্রাস্ফীতি থেকে রাজস্ব ঘাটতি, সবকিছুই এখন নিয়ন্ত্রণে।

যদিও বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারতে আমদানির তুলনায় রফতানি তেমন না হওয়ায় চলতি বছরে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ বিশাল। তাছাড়া, অশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ারও বেশ কিছুটা ছাপ পড়েছে শেয়ার বাজারে। তাঁদের আশঙ্কা, ডলারের তুলনায় টাকার দাম আরও পড়বে।

আরও পড়ুন