বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ট্রেনলাইনে ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায় চালক, এরপরই দুর্ঘটনা

Train_Accident_ctgচট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনায় পড়া কন্টেইনারবাহী ট্রেইলারটি লেভেল ক্রসিংয়ে উঠে আটকা পড়েছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে ট্রেইলারের চালক ‘সটকে পড়ার’ পরপরই ওই পথ দিয়ে আসা আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বলে রেল কর্মকর্তারা জানান। মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে বাড়বকুণ্ডে এই দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়; আহত হন আরও দুইজন।

সংঘর্ষে বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন ও চারটি বগি লাইন ছিঁড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় প্রায় ছয় ঘণ্টা চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

বাড়বকুণ্ড বাজারের পূর্ব দিকে ওই লেভেল ক্রসিং পার হয়ে অনন্তপুর এলাকায় ‘টুডে’ নামের একটি গুঁড়োদুধ কারখানার দিকে যাচ্ছিল কন্টেইনারবাহী ট্রেইলারটি। কনটেইনারে ছিল গুঁড়োদুধের বস্তা।

প্রত্যক্ষ্যদর্শী স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পূর্বাঞ্চল রেলের কর্মকর্তারা জানান, ট্রেন আসার আগে লেভেল ক্রসিংয়ে উঠে অচল হয়ে পড়ে ট্রেইলারটি। পেছন থেকে অন্য একটি গাড়ি দিয়ে সেটিকে ধাক্কা দিয়েও সরানো যায়নি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান বলেন, “ট্রেইলারটি অচল হওয়ার পরপরই চালক সেটি ফেলে সটকে পড়ে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা।”

ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রেইলারের কনটেইনারটি একপ্রকার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। প্যাকেট ছিঁড়ে গুঁড়োদুধ ছড়িয়ে পড়ে রেললাইনজুড়ে।

ইঞ্জিনসহ পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়, যার মধ্যে একটি বগি উল্টে পড়ে যায় মাটিতে।

স্থানীয়রা বলছেন, দুর্ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো লাইনম্যান ছিল না। ক্রসিং খালি পেয়েই লাইনে উঠে পড়েছিল ট্রেইলারটি।

সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়েও সেখানে কোনো লাইনম্যানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কোনো সদুত্তরও দিতে পারেননি রেল কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “সেখানে দুইজন লাইনম্যান নিয়োগ দেওয়া আছে। ঘটনার সময় একজন লাইনম্যান ছিল। পরে হয়ত কোথাও চলে গেছে।”

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফিরোজ ইফতেখার, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবিদুর রহমান।

আরও পড়ুন