বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নাইন ইলেভেনের সেই ‘ডাস্ট লেডি’ আর নেই

Dust-lady-Newsworldbdডাস্ট লেডি। ধূলি মানবী। সংবাদমাধ্যম দিয়েছিল তাঁর ওই নাম। ২০০১–এ ৯/১১–র সেই ভয়ঙ্কর দিনটিতে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৮ বছরের ওই তরুণী যখন হতচকিতভাবে এসে দাঁড়িয়েছিলেন চাতালে, তখন তাঁর সর্বাঙ্গ ধূলিধূসর। চোখে–মুখে, পোশাকে ধ্বংসস্তূপের ধুলো।

ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া আলোকচিত্রী স্ট্যান হোন্ডা ছবি তুলেছিলেন মৃত্যুঞ্জয়ী কৃষ্ণাঙ্গী ওই তরুণী মার্সি বর্ডারের, পুলিস এসে মার্সিকে নিরাপদ অঞ্চলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে, দুটি ছবি। ওই ছবি থেকেই মার্সি বর্ডারের নাম হয়ে গিয়েছিল ‘ডাস্ট লেডি’।

৪২ বছর বয়সে পাকস্থলীর ক্যান্সারে মারা গেলেন ধূলি মানবী মার্সি বর্ডার। তাঁর পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, ৯/১১–র ভয়াবহ দিনটিতেই ধ্বংসস্তূপের ধুলো শ্বাসনালি দিয়ে ঢুকে শরীরে ছড়িয়ে যাওয়াতেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন মার্সি।

ফেসবুকে তাঁর ভাই মাইকেল বর্ডার দুই সন্তানের জননী মার্সির মৃত্যুসংবাদ দেওয়ায় গোটা আমেরিকা শোকাচ্ছন্ন।

১৪ বছর আগে ওই দিনটিতে আল–কায়দার জঙ্গিদের বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ২টি বহুতল টাওয়ার ধ্বংস করে দিয়েছিল।

গত ১৪ বছরে মার্সি ডেইলি মেইল, নিউ ইয়র্ক পোস্ট প্রভৃতি সংবাদপত্রে কয়েকটি টিভি চ্যানেলে তাঁর ওই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়েছেন।

টিভিতে দেখা গেছে, বলতে বলতে বারবার শিউরে উঠছেন। ওই ভয়ঙ্কর ঘটনার পরই মার্সি আক্রান্ত হন গভীর বিষাদ রোগে। সবসময় তিনি ভাবতেন একটি বিমান ধেয়ে আসছে তাঁর দিকে। পরিত্রাণ খুঁজতে তিনি হয়ে পড়েছিলেন মদিরাসক্ত।

২০০১–এ ৯ সেপ্টেম্বর ভয়ঙ্কর ঘটনাটি যখন ঘটে, মার্সি তখন ছিলেন তাঁর নতুন চাকরি ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার দপ্তরে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারের ৮১ তলায়। জঙ্গি বিমানের ধাক্কায় সব কিছুই যখন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে থাকে, ছড়িয়ে পড়ে আগুন, তখন সিঁড়ির ধ্বংসস্তূপের ভেতর গড়িয়ে গড়িয়ে উঁচু থেকে একেবারে নিচে চাতালে এসে দাঁড়িয়ে পড়েন মার্সি।

২০১১ সাল থেকে তাঁর বিষাদ রোগ সারতে থাকে। মদ্যপান কমিয়ে দেন। ভাল হয়ে উঠছিলেন। ২০১৪ সালে ধরা পড়ে ক্যান্সার। মায়ের মৃত্যুতে তাঁর মেয়ে নোলি বলেছে, শুধু ডাস্ট লেডি নন, তাঁর মা জীবনযুদ্ধের বিজয়িনী ছিলেন। মা তাঁকে বাঁচতে শিখিয়েছেন।

আরও পড়ুন