গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বর্ধিত মূল্যহার ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
গ্যাসের দাম গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়েছে।
গ্যাসের মাসিক বিল ২০০ টাকা বাড়িয়ে এক চুলার জন্য এখন ৬০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের বিল প্রতি ঘনমিটার ৫ টাকা ১৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা করা হয়েছে।
গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিক প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে।
সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়া সব ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বর্ধিত মূল্যহার তুলে ধরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান এ আর খান বলেন, নতুন মূল্যহার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “কোম্পানিগুলো থেকে প্রস্তাব এসেছিল যে দাম বাড়ানো দরকার। ফেব্রুয়ারিতে আমরা শুনানি নিয়েছিলাম। অনেক কিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি আমরা।”
গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে এ আর খান বলেন, “পৃথিবীর আর কোথাও এত কম দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।”
কারওয়ান বাজারে বিইআরসি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
সর্বশেষ ২০০৯ সালের ১ অগাস্ট আওয়ামী নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন সিএনজি ও ইটভাটা ছাড়া সব ধরনের গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়।
গত জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার টানা দিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নতুন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গ্যাসের দাম বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান জানিয়েছিলেন।
গ্রাহক পর্যায়ে সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বেড়ানো হয় গত বছর মার্চে। এ সময় বিদ্যুতের দাম গড়ে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়। তার আগের পাঁচ বছরে খুচরা ও পাইকারি মিলিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় ১১ দফা।
নতুন করে দাম বাড়াতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব নিয়ে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি গণশুনানি শুরু করে বিইআরসি। এতে পিডিবি, পিজিসিবি, ওজোপাডিকোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও কমিশন এতদিন কোনো সিদ্ধান্ত জানাচ্ছিল না।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে রোববার জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে কমতে কমতে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালের মার্চের পর এই প্রথম জ্বালানি তেলের দাম এত নিচে নামল।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কমলেও স্থানীয় বাজারে কমায়নি সরকার।
সর্বশেষ ২০১৩ সালে সমন্বয়ের সময় বাড়ানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৭ টাকা, কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



