বান্দরবানের থানছির বড়মদক এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্পে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা অতর্কিত ছিল বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। এ হামলা মোকাবেলার জন্য বিজিবি প্রস্তুত ছিল না বলেও জানান তিনি।
বিজিবি সদর দফতরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা জানান।
এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা হেলিকপ্টারে করে বড়মদক এলাকায় পৌঁছান এবং ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
আজিজ আহমেদ বলেন, ‘এটা অতর্কিত হামলা ছিল, এ ধরনের ঘটনার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। এটা আমাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ঘটনা। সীমান্তে এখন ওই ধরনের পরিস্থিতি নেই। কারণ মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের কোনো যু্দ্ধ নেই, হঠাৎ করে তারা কেন আক্রমণ করবে? এ ছাড়া ভারতের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করেছি। আমাদের সদস্য যারা ওই স্থানে ছিল, খুব তাড়াতাড়ি তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’
আজিজ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আমাদের অপারেশন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ওই টহলের সময় বাড়িয়েছি। বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।’
তিনি জানান, বিজিবির ১০ থেকে ১২ প্লাটুন এবং সেনাবাহিনীর ৪ থেকে ৫ প্লাটুন সদস্য বড়মদক এলাকায় মোতায়েন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ওই এলাকায় আরাকান আর্মির স্থায়ী কোনো ঘাঁটি নেই। তবে তাদের যাতায়াত ছিল এবং ওই স্থানটি মাঝেমধ্যে প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করত।’
তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আরাকান আর্মিদের ব্যবহৃত রাইফেলের গুলি, শেল ও কোমরের বেল্ট উদ্ধার করেছি। ওই বেল্ট আহত কোনো আরাকান আর্মি সদস্যের হতে পারে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি, ৮ থেকে ১০ জন আরাকান আর্মি আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যেতে দেখেছে তারা। তাদের মধ্যে কেউ নিহতও হতে পারে।
কতজন আরাকান আর্মি হামলায় অংশ নিয়েছিল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ জন। তবে প্লাস, মাইনাস হতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনে মিয়ানমারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে, যাতে বিচ্ছন্নতাবাদীরা আমাদের সীমান্ত এবং মিয়ানমার সীমান্ত পার না হতে পারে।
হামলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কারণ জানতে পারিনি। কারণ উদ্ঘাটনে গোয়েন্দারা কাজ করছে। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা আরাকান আর্মির ১০টি ঘোড়া জব্দ করেছি। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করতে পারে।’ এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু বড়মদক এলাকাটি সরু। চারদিকে মিয়ানমার। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাওয়ার সময় বিজিবির টহল দলকে দেখেও হামলা করতে পারে।’
বড়মদক এলাকায় বিজিবির ক্যাম্প রয়েছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি ওই এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।’
আজিজ আহমেদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের ভুখণ্ডে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীর স্থান নেই। আমরা তাদের কঠোরভাবে মোকাবেলা করব।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে মিয়ানমারের সঙ্গে ৫৩৯ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত ছিল। এরই মধ্যে বিওপি (ক্যাম্প) স্থাপন করে ১১০ কিলোমিটার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। আরও ক্যাম্প স্থাপন করে ১০০ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া চলছে।’
পার্বত্য অঞ্চলে কয়টি ক্যাম্প রয়েছে- জানতে চাইলে বিজিবপ্রধান দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘পাবর্ত্য অঞ্চলে মোট ১৪১টি ক্যাম্প রয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে ৩২টি এবং ভারতের সঙ্গে ১০৯টি। আরও ৬০টি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।’
বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার বড়মদক এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্পে বুধবার সকাল ৯টায় দিকে হামলা চালায় মিয়ানমারের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের সদস্যরা। এতে বিজিবির নায়েক জাকির গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে আহতাবস্থায় হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়।


