বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাস ভাড়া বাড়ানোর তৎপরতা

bus-baraগ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার সুযোগে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভাড়া বাড়ানোর তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন গণপরিবহন মালিকরা। গত বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশার বর্ধিত ভাড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি (বিইআরসি) বিদ্যুতের পাশাপাশি প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার ঘোষণা দেয়। সে হিসাবে সিএনজির দাম বাড়ছে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সিএনজির দাম বাড়ানোর অজুহাতে অটোরিকশার ভাড়া ৬০ শতাংশ ও বাস-মিনিবাসের ভাড়া ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

বর্ধিত হিসাবে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে কিলোমিটারপ্রতি বাস ভাড়া পড়বে ২ টাকা, আর মিনিবাসে তা ১ টাকা ৮৮ পয়সা। বাস মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিগগিরই ব্যয় বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাড়ার এ হার চূড়ান্ত করা হবে। বর্তমানে প্রতি কিলোমিটার বাসে ১ টাকা ৬০ পয়সা ও মিনিবাসে ১ টাকা ৫০ পয়সা ভাড়া ধার্য রয়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। যদিও সরকার নির্ধারিত ভাড়া মানে না বিভিন্ন বাস কোম্পানি। এ নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বচসাও হয় নিয়মিত। তবে ন্যূনতম ভাড়া মিনিবাসে ৫ টাকা ও বাসে ৭ টাকা অপরিবর্তিতই থাকছে।

সিএনজির অটোরিকশার ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠিয়েছে বিআরটিএ। এ হিসাবে অটোরিকশার ভাড়া প্রথম দুই কিলোমিটার হবে ৪০ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারে ১২ টাকা ও ওয়েটিংয়ের (যাত্রাবিরতি, সিগনাল ও যানজট) জন্য ২ টাকা মিনিট আদায় করা হবে।

বর্তমানে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ২৫ টাকা, পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৭ টাকা ৬৪ পয়সা ও ওয়েটিং চার্জ ১ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারিত রয়েছে। যদিও সরকার নির্ধারিত এ ভাড়া মানে না কোনো অটোরিকশার চালকই। বরং তারা মিটারের পরিবর্তে চুক্তিতে যাতায়াত করেন। ভাড়ার পাশাপাশি মালিকদের জমা ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৮৫০ টাকার প্রস্তাবও করেছে বিআরটিএ।

এ প্রসঙ্গে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যয় বিশ্লেষণ করেই অটোরিকশার ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তা অনুমোদনে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আর মালিক সমিতির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যয় বিশ্লেষণ করে বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এক্ষেত্রে সব বিষয়ই বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারের ঘোষণার আগে ২০১১ সালে দুই দফায় ১৩ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো হয় সিএনজির দাম। সে সময় দুই দফায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাস ও অটোরিকশার ভাড়াও বাড়ানো হয়।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রস্তাবে বলা হয়, ২০১১ সালে ১৯ সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাস ভাড়া বাড়ানো হয়। প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম ৫ টাকা বাড়লেও অন্যান্য সামগ্রীর দাম সে সময় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। তবে কোনো ধরনের ব্যয় বিশ্লেষণ না করে কিলোমিটারপ্রতি ৫ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিআরটিএ। এতে পরিবহন মালিকদের বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়। বন্ধও হয়ে যায় বেশ কয়েকটি বাস কোম্পানি। সরকার আবারো সিএনজির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে পরিবহন কোম্পানিগুলোর লোকসান আরো বাড়বে। ফলে দ্রুত ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়ানো দরকার।

আরও পড়ুন