বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শিমুর বিয়ে নিয়ে অসভ্যতা কেন?

Shimu_266536224শুক্রবার ২৮ আগস্ট বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেছেন অভিনয়শিল্পী সুমাইয়া শিমু। বর নজরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত। ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানের একটি হোটেলে শিমুর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়েটা পারিবারিকভাবে হয়েছে তা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন শিমু নিজেই।

শিল্পী সুমাইয়া শিমু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমএসএস করেছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামাটিকস বিভাগ থেকে পিএইচডি করছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের মেসি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস করেছেন বর নজরুল ইসলাম। মেধা-যোগ্যতায় কে কার চাইতে বেশি বা কম তা বলা কঠিন। হলেই বা কি? দুজনকেই অভিনন্দন, শুভেচ্ছা।

অভিনয়শিল্পী হওয়ায় তারকা হিসেবে শিমুকে আমরা কমবেশি সবাই চিনি, অনেকে হয়তো জানেনও। এখন নজরুল ইসলামকেও আমরা চিনি শিমুর বর হিসেবে।

তারকা হওয়ায় শিমুর বিয়ের ছবিটি পরিবার-পরিজন, ভক্ত-অনুরাগী, বন্ধুরা ছড়িয়ে দেবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু না, ছবিটি শেয়ার হচ্ছে অন্য একটি কারণেও। কারণটি খুবই জঘণ্য, নিন্দনীয়, লজ্জার এমনকি অপরাধমূলকও!

শুভেচ্ছা বা অভিনন্দন জানানো তো দূরের কথা, সরাসরি বর্ণবাদি এবং চরম পুরুষতান্ত্রিক আক্রমণ করা হয়েছে নতুন দম্পতিকে। গায়ের রঙ কালো হওয়ায় বর নজরুল ইসলাম এবং শিমুকে অপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে মন্তব্য করা হয়েছে। মন্তব্যের ধরন দেখে মনে হয়েছে, মন্তব্যকারীদের কেউ কেউ শিমুর বন্ধুও হয়ে থাকবেন! নিন্দা-প্রতিবাদের মুখে যদিও অনেকে মন্তব্য মুছে ফেলেছেন এরই মধ্যে।

এসব মন্তব্যকারীদের দৃষ্টিভঙ্গী হলো, শিমু সুন্দর এ কারণে সে যোগ্যতাসম্পন্ন। শিমু লাস্যময়ী, ভোগ্য। অনেকে মন্তব্য করেছেন, টাকা দেখে বিয়ে করেছেন শিমু, তাই তাকে টাকাও অফার করেছেন অনেকে। আর গায়ের রঙ কালো হওয়ায় বর নজরুল ইসলাম কুৎসিত, অযোগ্য, খারাপ ইত্যাদি ইত্যাদি। টাকাওয়ালা হওয়ার কারণে শিমুর মতো মেয়েকে সে বিয়ে করতে পেরেছে। এসব মন্তব্যের কোনোটাই লিখে প্রকাশ করার মতো না।

ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ!…। একবিংশ শতাব্দিতে এসে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী লজ্জার, অপমানের। এসব মন্তব্য নারী হিসেবে তো বটেই, মানুষ হিসেবেও শিমুকে অপমান করা হয়েছে চরমভাবে। শিমুর বরের বেলায়ও তাই। অন্যদিকে এসব মন্তব্য ঘৃণ্য বর্ণবাদি দৃষ্টিভঙ্গী চেতনার যেমন প্রকাশ ঘটেছে, তেমনি প্রকাশ ঘটেছে চরম পুরুষতান্ত্রিক লাম্পট্যের।

যারা সচেতন বা অসচেতনভাবে এই দৃষ্টিভঙ্গী লালন করেন তাদের প্রতি নিন্দা-প্রতিবাদ জানানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। এসব মন্তব্য দেখে চুপ করে থাকা বা নির্লিপ্ত থাকাটাও এক ধরনের অশ্লীলতা।

কি দেখে, কি কারণে নজরুল ইসলামকে বিয়ে করেছেন শিমু সেটা নিতান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। বাড়িয়ে বললে, তার পরিবারের বিষয়। যে কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার অধিকার শিমু বা নজরুলের যেমন আছে তেমনি আছে অশ্লীল মন্তব্যকারীদেরও।

সামাজিকতা-অসামাজিকতা দু’টোই সহাবস্থান করছে সমাজবদ্ধ ব্যক্তি, চক্র, গোষ্ঠীর মাঝে। ভাল-মন্দ, সামাজিকতা-অসামাজিকতার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। নিরন্তর দ্বন্দ্বের ফলেই এগিয়ে যায় সমাজ-সভ্যতা। এই এগিয়ে যাওয়াটা এমনি এমনি ঘটে না। সমষ্টিক সচেতন প্রয়াসে এগিয়ে নিতে হয়। আর সেটা একমাত্র সমাজবদ্ধ মানুষের পক্ষেই সম্ভব। জীব জগতের অন্য প্রাণী থেকে মানুষের পার্থক্য এখানেই।

আরও পড়ুন