গাইবান্ধা জেলাজুড়ে যমুনা ও তিস্তা নদীর পানি কমলেও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার দীর্ঘ প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙছে মূল খূণ্ড। ভাঙনে সাঘাটা উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ এক হাজারের বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলো কেউ ওয়াপদা বাঁধে, কেউ অন্যের বাড়িতে, কেউবা পাশের মুক্তিনগর ইউনিয়নে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ ছাড়া যমুনা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজারের বেশি বাড়িঘর। ভাঙন আতংকিত মানুষ বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন। নদীর ভাঙন কাছাকাছি চলে আসায় গোবিন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভাঙনের শিকার গৃহহারা গোবিন্দী গ্রামের জামাল মিয়া বলেন, ‘যমুনা নদীর ভাঙনে গত দু’দিনে বসতঘরের যেটুকু জায়গা ছিল তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমরা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’
বাঁশহাটা গ্রামের শরবেস আলী বলেন, ‘যমুনার ভাঙনে বসতভিটার যে জায়গা ছিল তা দুই বছরে নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন পরিবারের ছয় সদস্য ও গবাদিপশু নিয়ে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিতে হয়েছে।’
সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোশারফ হোসেন সুইট জানান, যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে গত কয়েক বছর আগে বগির ছাও, শেংগুয়া, কোয়ালীকান্দি, চকপাড়া নদীতে চলে গেছে। চলতি বর্ষাতেও গোবিন্দীতে ৩০০, বাঁশহাটায় ১০০, উত্তর সাথালিয়ায় ৯০, হাটবাড়ীতে ২০০ পরিবারসহ এক হাজারের বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী চন্দ্র শেখর জানান, বর্তমানে বালুর বস্তা ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। তবে ভাঙন রোধে এ মুহূর্তে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


