ভারতের উত্তরপ্রদেশে গ্রাম পঞ্চায়েত ভাইয়ের ‘অপরাধে’ দুই বোনকে ধর্ষণ ও নগ্ন করে ঘুরানোর নির্দেশ দিয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশটির প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। খবর আলজাজিরার।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাগপত গ্রামের পঞ্চায়েত গত ৩০ জুলাই ২৩ বছর ও ১৫ বছর বয়সী দুই বোনকে ধর্ষণ ও মুখে চুনকালি মাখিয়ে নগ্ন করে গ্রামে ঘুরানোর নির্দেশ দেয়। নিম্নবর্ণের ওই নারীদের অপরাধ তাদের ভাই গ্রামের সম্ভ্রান্ত ‘জাত’ বর্ণের এক মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে।
এ ঘটনার পরপরই ‘দলিত’ বর্ণের ওই দুই বোন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে নয়াদিল্লিতে চলে আসে। গত ১৮ আগস্ট নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী বড় বোন দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে এক পিটিশন দায়ের করেন। পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে আদালত।
তবে আদালতে যাওয়াতে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আরও হুমকি পাচ্ছেন বলে এ্যামনেস্টিকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের এক ভাই। তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েতে জাতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তারা আমাদের কথা শোনে না। পুলিশও আমাদের কথা শোনে না। পুলিশ বলেছে, যে কেউ এখন হত্যার শিকার হতে পারে।’
ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক পিটিশনের উদ্যোগ নিয়েছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। ইতোমধ্যে ওই পিটিশনে ৯০ হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর পড়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী দুই বোনের ২২ বছর বয়সী ভাইয়ের সঙ্গে তিন বছর ধরে উচ্চবর্ণের ২১ বছর বয়সী এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
গত ফেব্রুয়ারিতে ওই মেয়েকে জাত-বর্ণেরই এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয় তার পরিবার। এ ঘটনার এক মাস পর দলিত বর্ণের ওই ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায় মেয়েটি। এর কিছুদিন পর ওই জুটি তাদের পরিবারের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরপর ছেলেটিকে মিথ্যা মামলায় জেলে দেওয়া হয়। প্রেমিকের সন্তান পেটে নিয়ে মেয়েটি এখন তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে।


