ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্সরে করাতে গেলে এক টেকনিশিয়ান কৌশলে মধ্যবয়সী এক নারী রোগীকে ধর্ষণ করেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী বিষয়টি পুলিশকে জানালেও প্রভাবশালীদের চাপে পড়ে বিষয়টি আমলে নেয়নি তারা। মৌলভীবাজার বড়লেখা পৌর শহরের সুরমা ডায়াগনিস্টক সেন্টারের ওই ঘটনায় উপজেলার প্রতিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যাতায়াতকারী নারী রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। লম্পট এক্সরে টেকনিশিয়ান পলাতক রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইউপি মেম্বার সৈয়দ লুৎফুর রহমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ও ধর্ষক টেকনিশিয়ানের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে সম্ভ্রম হারানো নারীকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। সম্ভ্রম হারানো নারী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী স্বামী পরিত্যক্ত। উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় থাকেন তিনি।
১৮ আগস্ট ডাক্তার আবদুল মান্নানের পরামর্শ মতো L/S spine (Lambo Secral Spine) এক্সরে করাতে সুরমা ডায়াগনস্টিকের এক্সরে ল্যাবরেটরিতে যান তিনি। সেখানে টেকনিশয়ান গৌছ উদ্দিন জানতে চায়, তার স্বামী সঙ্গে আছেন কিনা। কারণ এ ধরনের পরীক্ষার আগে যৌন মিলন করতে হয়। ওই নারী স্বামীর সঙ্গে নেই জানালে লম্পট টেকনিশিয়ান গৌছ ফুঁসলিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
২১ আগস্ট চিকিৎসক আবদুল মান্নানকে এক্সরে রিপোর্ট দেখাতে গিয়ে তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন। চিকিৎসক তার অভিযোগ শুনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ওলিউর রহমান ওলিদকে বিষয়টি জানান এবং রোগীকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
ডাক্তারের পরামর্শমতো ওই নারী বিষয়টি থানায় জানালে ওসির নির্দেশে এসআই কামাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেন। এরপর অদৃশ্য কারণে পুলিশ আর অগ্রসর হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করলেও এসআই কামাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
অভিযোগ উঠেছে, ওই নারীকে চাপ প্রয়োগ করে মামলা করতে দেননি ইউপি সদস্য সৈয়দ লুৎফুর রহমান। তিনি অত্যন্ত গোপনে বিষয়টি সালিশির মাধ্যমে মীমাংসা করেছেন জানিয়ে ওই নারীকে দুই দফায় (প্রথমে ২২ হাজার এবং পরে ৫ হাজার) ২৭ হাজার টাকা দেন।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী ইউপি মেম্বারের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি নিরীহ, আমার তেমন কোনো কাছে আত্মীয় নেই। ইউপি সদস্য টাকা দিয়ে বলেছেন, তিনি সবকিছু মীমাংসা করে দিয়েছেন, আমি যেন থানা পুলিশ না করি।
ঘটনাটি নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক হয়েছে জানিয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে বলেন, শুনেছি ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ইউপি সদস্য সৈয়দ লুৎফুর রহমান লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন। কিন্তু ওই নারীকে দিয়েছেন সামান্য কিছু টাকা।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার আবদুল মান্নান বলেন, কোমরের ব্যথা নিয়ে ওই রোগী তার কাছে আসলে তিনি কিছু ওষুধসহ L/S spine (Lambo Secral Spine) এক্সরে রিপোর্ট নিয়ে আসতে বলেন। এ ধরনের এক্সরেতে যৌন মিলনের প্রয়োজন- এটি বানোয়াট কথা।
সুরমা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ওলিদ জানান, এক্সরে থিয়েটারে কোনো মহিলা কর্মী নেই। তাই টেকনিশিয়ান গৌছ উদ্দিন সেখানে কাজ করত। তবে ডাক্তার ও মহিলার কাছ থেকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর গৌছকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনিও টাকা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে ওই নারীকে টাকা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন ইউপি সদস্য সৈয়দ লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, টাকার বিষয়টি সঠিক নয়, শুনেছি ঘটনাটি মীমাংসা হয়ে গেছে।
বড়লেখা থানার এসআই কামাল বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনারা যেভাবে শুনেছেন সেভাবে লেখেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। তবে ঘটনাটি শুনে তিনি এসআই কামালকে সুরমা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে প্রাথমিক খোঁজখবর নেন।


