৭ হাজার ২১৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে ৩ হাজার ১১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাকি অর্থের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১০৪ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিভিন্ন দাতা সংস্থা দেবে ৩ হাজার ৯৯৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে টাঙ্গাইলে বিসিক শিল্প পার্ক স্থাপন করা হবে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াইতে এ শিল্প পার্ক হবে। এজন্য ৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এতে ২৮০টি শিল্প প্লট স্থাপিত হবে। এর মধ্যে ন্যূনতম ১০ ভাগ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
দ্বিতীয়টি হলো, ৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা’র সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প।
তৃতীয়টি হলো বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন কুর্ণিবাড়ি হতে চন্দনবাইশ পর্যন্ত যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প। এ প্রকল্প ব্যয় হবে ৩০১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
চতুর্থ প্রকল্প হলো ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)। এ ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য থেকে নেওয়া হবে ৩ হাজার ৫৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে ১ হাজার ৫১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ঢাকা ওয়াসা দেবে ৩০ কোটি টাকা।
চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু করে ২০২০ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের মূল কমপোনেন্ট ৪৫০ এমএলডি ক্ষমতা সম্পন্ন পানি শোধনাগারটি সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প ১ম ও ২য় পর্যায়ের পাশেই নির্মাণ করা হবে। শীতলক্ষ্যা নদীর পানি গ্রীষ্মকালে মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এই পানি ‘র’ ওয়াটার হিসেবে ব্যবহারের উপযুক্ততা হারাতে পারে। এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে বিস্তারিত সম্ভাব্য সমীক্ষার আলোকে মেঘনা নদীতে ১ম ও ২য় পর্যায়ে স্থাপিত ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ২টির জন্য প্রয়োজনীয় ‘র’ ওয়াটার সংগ্রহ করার জন্য তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।
ঢাকা শহরে প্রতিদিন পানির চাহিদা ২২০ কোটি লিটার। এর ৭৮ ভাগ আসে ভ‚গর্ভস্থ উৎস থেকে। ২০৩৫ এ চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে দৈনিক ৬০০ কোটি লিটার। ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পানি উত্তোলন করায় প্রতিবছর পানির স্তর ২ থেকে ৩ মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। এজন্য সরকার লক্ষ্য ঠিক করেছে ২০৩০ সালে ভূগর্ভস্থ ও ভূউপরিস্থ পানির অনুপাত ৩০ অনুপাত ৭০ করা।
১ হাজার ৮৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলি পানি সরবরাহ (২য় সংশোধনী) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রয়েছে ৪১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মেঘনা সেতুর স্কয়ার প্রটেকশন এবং মেঘনা ও গোমতী সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলা ও মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলায় এ প্রকল্প নেওয়া হবে।
এছাড়া ১৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাসমূহ এনফল্ট প্লান্টের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


