ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬৫ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের জামতলা এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বুধবার বিকেল তিনটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরিদপুরগামী রাব্বী পরিবহনের একটি মিনিবাসের সঙ্গে মৃধা ডিলাক্স নামের একটি মিনিবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মৃধা ডিলাক্স বাসটি রাস্তার ডানপাশের খাদে পড়ে যায়।
এ ঘটনায় মৃধা ডিলাক্স মিনিবাসের সুপারভাইজার ফরিদপুর সদরের কাফুরা এলাকার করুন দত্ত (৪৫), গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের মহারাজপুর এলাকার হাবিব শেখ (৫০) ও আনুমানিক ৩৭ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ছাড়া স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক নারী ও দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী জামতলার এলাকার লিয়াকত হোসেন জানান, একটি নসিমনকে সাইড দিতে গিয়ে বাস দু’টির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একটি বাস ছিটকে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা এসে হতাহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) নাজিমউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্তাবধায়ক গণপতি বিশ্বাস বলেন, ‘দুই বাসের সংঘর্ষে আহত ৬৫ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৫৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকি আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।’
ফরিদপুর ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী ও অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুর রশিদ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপতালে গিয়ে আহতদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেন।


