শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১১০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরিন হাসিবসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার কমিশনের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
২০১৩ সালের ২৯ মার্চ শাহজালাল ব্যাংকের ইস্কাটন শাখার ব্যবস্থাপক মো. নকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় খাজা সোলেমান চৌধুরীসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন, যা পরবর্তীতে তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান মামলাটি তদন্ত করে বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও শাহজালাল ব্যাংকের ১৪ জনকে আসামি হিসেবে সুপারিশ করে সম্প্রতি তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয় কমিশন।
মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের নয়জন এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চারজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে। এমডি ও চেয়ারম্যান ছাড়া বিসমিল্লাহ গ্রুপের বাকি সাতজন হলেন- প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও খাজা সোলেমানের মাতা বেগম সারোয়ার জাহান, গ্রুপের পরিচালক আবিদা হাসিব, নাহিদ আনোয়ার খান, খন্দকার মো. মইনুদ্দিন ইশহাক, গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আজিজ মুতাক্কি ও ব্যবস্থাপক রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা হলেন- ইস্কাটন শাখার প্রাক্তন শাখা ব্যবস্থাপক মো. আসলামুল হক, প্রাক্তন ডেপুটি ম্যানেজার এ এস এম হাসানুল কবীর, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম, জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মান্নাতুল মাওলা। বাকি এক আসামি হলেন- নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন।
অভিযোগপত্রে এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে দুজনকে বাদ দিয়ে নতুন করে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মারা যাওয়ার কারণে বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানের মালিক খাজা সোলেমানের পিতা সফিকুল আনোয়ার চৌধুরীকে এবং অভিযোগে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় টি ডব্লিউ এক্সপ্রেসের মালিক মো. মঈন উদ্দিনকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে শাহজালাল ব্যাংকের এ এস এম হাসানুল কবীর, মো. শহিদুল ইসলাম, মান্নাতুল মাওলা ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের গ্রাহক মেসার্স বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরীসহ আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল দলিল দেখিয়ে ভুয়া রপ্তানি বিলের বিপরীতে এফডিবিপি ও ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে ফান্ডেড মোট ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এতে মুনাফাসহ ব্যাংকের মোট ক্ষতি হয়েছে ১১০ কোটি ৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে আসামিদের ওই অর্থ আত্মসাতে প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল। এদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তারা নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত কোম্পানি কর্তৃক মালামাল রপ্তানি না করা সত্ত্বেও ব্যাংকে দাখিলকৃত ভুয়া রপ্তানি বিল ও জাল কাগজপত্রের বিপরীতে অর্থ ছাড় করেছেন।


