প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সংখ্যালঘু-সংখ্যালঘু’ বলে নিজেদের খাটো করবেন না। আপনারা এ দেশের নাগরিক। আপনাদেরও সমান অধিকার। আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ অধিকার, মাতৃভূমির অধিকার নিয়ে এ দেশে বসবাস করবেন। এ দেশে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালন করবে। আমরা এটা নিশ্চিত করেছি।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বৃহস্পতিবার জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ সব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালে সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছে, বুকের রক্ত দিয়েছে। দেশ স্বাধীন করেছে। যে দেশ আমরা সকলে মিলে স্বাধীন করেছি, সে দেশে কোনো সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব থাকতে পারে না।আমাদের স্লোগান ধর্ম যার যার উৎসব সবার। মানুষ এখন সেভাবেই ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ধর্ম শান্তির কথা বলে। আমরা চাই এ দেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক। স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করুক। আমরা সে ব্যবস্থাই নিয়েছি।
তিনি বলেন, এখানে কেউ কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলতে পারবে না। কেউ ধর্ম পালন করবেন কি করবেন না, এটা তার ব্যাপার। কিন্তু কারও অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারবেন না। প্রত্যেকে নিজের ধর্মকে যেমন সম্মান করবেন তেমনি অন্যের ধর্মকেও সম্মান করবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সকল ধর্মের মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূল নীতিতে রেখে আমাদের সংবিধান লেখা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ’৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর এ পথ থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসে। সংবিধান পরির্বতন করা হয়। আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংশোধন করে আবার এই বিষয়টি নিয়ে আসি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দসহ ধর্মীয় নেতারা।


