জীবনমুখী বাংলা গানের বরণ্যে কণ্ঠশিল্পী নচিকেতার সঙ্গে পরিচয়, আড্ডা ও অন্তরঙ্গ আলাপচারিতা হলো আকস্মিকভাবে। ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে আমাকে ফোন করলেন বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী চন্দন সিনহা। তাঁর ফোনে সাড়া দিয়ে গেলাম নিউইয়র্কের এস্টোরিয়া এলাকায়।
নচিকেতা ও চন্দন সিনহাকে নিয়ে গাড়ি নিয়ে ছুটতে হলো লং আইল্যান্ড। পথে যেতে যেতে আলাপ-কথার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু জেনে নেয়া হচ্ছিলো। কেন গান, গান নিয়ে তাঁর ভবিষ্যতের স্বপ্ন, গান গেয়ে মামলা-হয়রানীসহ নানা কথা বললেন নচিকেতা।
এক সময় বাংলাদেশ নিয়েও তার কথা শুনলাম। নচিকেতার পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশের। বরিশালের ধানসিঁড়ি নদীর নামকরণে তিনি তাঁর কন্যার নামও রেখেছেন-ধানসিঁড়ি। তিনি কোনকিছু হতে পারতেন না বলেই শিল্পী হয়েছেন-জানালেন।
শুধু কি কণ্ঠশিল্পী? তিনি একজন লেখকও। নচিকেতার এ পর্যন্ত চারটি উপন্যাস বের হয়েছে। ছোট গল্প লিখেন বছরে অন্তত একটা। তাঁর চার শতাধিক গান নিয়ে একটি গীতিকাব্যও বের হচ্ছে। আমি বাংলাদেশ থেকে বইটি বের করতে চাই-জানালে তিনি সানন্দে রাজী হয়ে গেলেন।
গাড়িতে বসে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর স্মারকগ্রন্থ কণ্ঠস্বর থেকে নচিকেতা আমার তিনটি ছড়া পাঠ করলেন। বললেন-ভাল লিখি। উৎসাহ পেয়ে তাঁকে আমার আট উপন্যাসের গ্রন্থটি উপহার দিলাম। তিনি ভীষণ খুশি হলেন। জানালেন একদিনের মধ্যে উপন্যাসগুলো পড়ে আমাকে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। আমাকেও তাঁর লেখা পড়ে আমার প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে-তাও শর্ত দিলেন। মেনে নিলাম হাসিমুখে।
তাঁর সঙ্গে সন্ধ্যায় ফের দেখা। তিনি তাঁর সামনে থাকা সকলকে আমার পরিচয় দিলেন একজন উপন্যাসিক হিসাবে। কিছু প্রশংসাও করলেন। আমরা দুজন সত্ত্বার দিক দিয়ে এক-এ কথাও বললেন। আমি আনন্দে-বিস্ময়ে বিমূঢ় হই। এতো বড় একজন শিল্পী আমাকে কী নির্মোহভাবে যে সম্মান জানালো-আমার মনে হতে থাকে এই মনুষ্য জন্ম যেন স্বার্থক! আমি নচিকেতার ব্যবহারে অবনত।
নচিকেতাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম-নীলাঞ্জনা কি আপনার প্রেমিকা, নাকি নিছক কল্পনা? অনেক লেখক বা কবির যেমন থাকে। তিনি বলেছেন: “নীলাঞ্জনা নিয়ে কোনও কথা নয়। নো কমেন্টস।”
নিউইয়র্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



