বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পীর ও খাদেমকে জবাই

CTG-Peerচট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বাংলাবাজার এলাকায় নেংটা ফকিরের মাজারে ঢুকে পীর রহমত উল্লাহ প্রকাশ নেংটা ফকির (৫২) ও খাদেম আব্দুল কাদেরকে (২৫) জবাই করে হত্যা করেছে এক দুর্বৃত্ত। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রহমত উল্লাহ ওরফে লেংটা মামুর ‘আস্তানাটি’ স্থানীয় লোকজনের কাছে ‘লেংটা মামুর মাজার’ নামে পরিচিত।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, শুক্রবার বিকেলে বাংলাবাজার এলাকায় নেংটা ফকিরের মাজারের পীর রহমত উল্লাহকে গলা কেটে হত্যা করে এক যুবক। ওই ঘটনা দেখে ফেলায় খাদেম আব্দুল কাদেরকেও জবাই করে খুন করা হয়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ওই ঘাতককে ধাওয়া করে। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই যুবক পালিয়ে যায়। ককটেলের স্প্লিন্টারে অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ককটেলের আঘাতে আহত মুন্না (১২) নামে একজনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ- কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ জানান, ফকিরের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল কি-না, অথবা ‘মাজারবিরোধী গোষ্ঠীর’ কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে জুমার নামাজের সময় এক যুবক এসে রহমত ও তার খাদেমকে খুন করে পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে জামতলা হয়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে ধাওয়া করলে সে দুটি হাতবোমা ফাটায়। বোমার স্প্লিন্টারে মো. মনির (২৬) ও মো. মুন্না (৭) নামে দুই জন আহত হন।

আহত মনির বলেন, নামাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় তিনি এক যুবককে ছুরি ও একটি ব্যাগ হাতে হেঁটে আসতে দেখেন। লোকজন তখন চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করলে ওই যুবক দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। আমি রাস্তার মধ্যে তাকে জাপটে ধরতে গেলে সে ব্যাগ থেকে বের করে পর পর দুটি বোমা ফাটায়।

আনুমানিক ২৭ থেকে ২৮ বছর বয়সী ওই যুবকের পরনে প্যান্ট ও লাল গেঞ্জি ছিল বলে জানান মনির।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা দুপুরে কাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

উপ-কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, আস্তানার ভেতরে গলা কাটা ‘লেংটা মামুকে’ শোয়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। বেলা দেড়টা থেকে পৌনে ২টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় লেংটা মামুকে হত্যা করা হয়েছে। তার খাদেম ‘হত্যাকারীকে’ ধরে ফেললে তাকেও গলায় ছুরি মারা হয়।

হত্যাকাণ্ডটি ‘পরিকল্পিত’ মন্তব্য করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “লেংটা মামুর গলার ডান দিকে ছুরি মারা হয়েছে। শরীরে অন্য কোনো স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

এদিকে ওই আস্তানার ভেতর থেকে একটি লাল-সবুজ-কালো গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যুবকটি গেঞ্জি পাল্টে চলে যায় বলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) শরীফুল ইসলামের ধারণা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাবউদ্দিন ওই আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তিনি বলেন, গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে রহমত উল্লাহ ওই এলাকায় থাকেন। খাদেম কাদেরও তার সঙ্গে আছেন প্রায় ১০ বছর ধরে। আগে পাশের একটি টিনের চালা দেওয়া বেড়ার ঘরে থাকলেও চার-পাঁচ বছর আগে তারা পাকা ঘরে উঠে আসেন। প্রতি বৃহস্পতিবার ওই আস্তানায় জিকির ও মাহফিল হত জানিয়ে শাহাবউদ্দিন বলেন, “এলাকার বাইরে থেকেও অনেক লোক মাহফিলে আসতেন।”

দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আস্তানার মেঝেতে প্লাস্টিকের মাদুর বিছানো, পাশে রক্তের দাগ। আস্তানার বাইরেও ছোপ ছোপ রক্ত দেখা যায়। তবে আস্তানার দানবাক্স দেখে অক্ষতই মনে হয়। আস্তানার বাইরে লেংটা মামুর ভক্ত অনেক নারী-পুরুষকে ভিড় করে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন