বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মা এতো নিষ্ঠুর হয়!

indrani-mukerje-0509-300x169নিজের মেয়েকে এই বয়সে বধূর সাজে সাজিয়ে দেওয়ার কথা। সাজিয়েছিল ইন্দ্রাণী, মরা মেয়ের লাশ। শিনার পোশাক বদলে, চুল আঁচড়ে, মেকআপ করে, লিপস্টিক পর্যন্ত নিখুঁত লাগিয়ে, প্রাণহীন চোখ সানগ্লাসে ঢেকে, গাড়ির পিছনের সিটে সঞ্জীব আর নিজের মাঝখানে বসিয়ে ওরলির বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিল রায়গড়ের জঙ্গলের দিকে। চালকের আসনে বিশ্বস্ত শ্যাম রাই। তার আগে ইন্দ্রাণী একাধিকবার ওই পথে গিয়ে দেখে নিয়েছিল হাইওয়ের কোথায় কোথায় পুলিসের পাহারা থাকে। পুলিস কীভাবে গাড়ির ডিকি খুলে নিয়মমাফিক তল্লাশি করে। তাই শিনাকে ওইভাবে জীবিত সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া। পথে যতবার পুলিস চৌকিতে গাড়ি থেমেছে, মৃত শিনার মাথা পরম আদরে নিজের কাঁধের ওপর টেনে নিয়েছে ইন্দ্রাণী। যাতে পুলিস দেখে, বোঝে, মায়ের কাঁধে মাথা রেখে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে মেয়ে।

প্রথমে শোনা গিয়েছিল, রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে শিনা–র হাতজোড়া চেপে ধরে রেখেছিল ইন্দ্রাণী, গলা টিপে খুন করেছিল সঞ্জীব। তার পর শোনা গেল, অচৈতন্য শিনার পা ধরে রেখেছিল সঞ্জীব, ইন্দ্রাণী নিজে হাতে খুন করেছে মেয়েকে। সন্দেহ হয়েছিল তখনই। নিয়মিত ম্যানিকিওর করা অমন সযত্নে চর্চিত সুন্দর আঙুলে রক্তের দাগ লাগবে, তাই কখনও হতে দিতে পারে ইন্দ্রাণী। ঠিক তাই। এখন শোনা যাচ্ছে, সঞ্জীব খান্না আর ড্রাইভার শ্যাম রাই খুন করেছিল শিনাকে, গাড়ির সামনের সিটে চুপচাপ বসে ছিল ইন্দ্রাণী। কী ভীষণ সেই নিরুত্তাপ বসে থাকা! পিছনে যাকে গলা টিপে খুন করা হচ্ছে, সে তারই আত্মজা। প্রথম সন্তান। মায়ের চেনা চেহারার সঙ্গে কোনওভাবেই মেলানো যায় না ইন্দ্রাণীকে। বরং তার জীবনের প্রতিটা পর্যায়ে নির্ভুল নিষ্ঠুর হিসেব। কেউ বুঝতে পারেনি। বরং তার জীবনে যে তিনজন পুরুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে, সেই সিদ্ধার্থ, সঞ্জীব এবং পিটার অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছে এবং ভালবেসেছে ইন্দ্রাণীকে। আর ইন্দ্রাণী তুখোড় ট্রাপিজ খেলোয়াড়ের মতো একজনের হাত ছেড়ে অন্যজনের হাত ধরেছে। আবার ফিরে এসেছে, আবার চলে গেছে।

আপাতদৃষ্টিতে ইন্দ্রাণীর তিক্ত বিবাহ–বিচ্ছেদ হয়েছে দ্বিতীয় স্বামী সঞ্জীবের সঙ্গে। একমাত্র মেয়ে বিধি–র দেখভালের অধিকার রীতিমতো আইনি লড়াই করে সঞ্জীবের থেকে কেড়ে নিয়েছে ইন্দ্রাণী। বিধির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে পরের স্বামী পিটার–কে দিয়ে তাকে দত্তক নিইয়েছে। সেই সন্তানের জন্য ইন্দ্রাণীর উদ্বেগ তুঙ্গে উঠছে, যখন শিনা বিয়ে করবে ঠিক করছে পিটারের প্রথম পক্ষের ছেলে রাহুলকে। কী উদ্বেগ? না পিটারের সম্পত্তি বহু ভাগ হয়ে যেতে পারে, যদি দুই প্রথম পক্ষের সন্তান পরিবারের অংশীদার হয়ে যায়। প্রথমে মনে হচ্ছিল, লোকলজ্জার ভয়ে শিনা–রাহুলের বিয়েতে আপত্তি ছিল ইন্দ্রাণীর। এখন বোঝা যাচ্ছে, লজ্জা ইন্দ্রাণীর কোনওদিনই ছিল না। থাকলে, তার জীবনের শুরুটাই অন্যরকম হত। বেঁচে যেত বেচারি শিনা।-আজকাল

ডেস্ক রিপোর্ট

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন