বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পে স্কেলের ভাগ্য নির্ধারণ আজ মন্ত্রিসভায়

Pay__একের পর এক যাচাই বাছাই শেষে নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উঠতে যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা আজ সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেই পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রস্তাব সরাসরি বৈঠকে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন রবিবারই।

তবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যে চারটি এজেন্ডা রয়েছে সেখানে পে-স্কেলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সূত্র বলছে, পে-স্কেলের বিষয়টি গোপন রাখা হচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নেয়ার প্রয়োজন হবে।

জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলে টাইম স্কেল রাখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড এই দুই সুবিধাই রাখার দাবি শেষ পর্যন্ত থাকছে না। যে কোনো একটি বাদ পড়ছে। বাদ পড়ার তালিকায় সিলেকশন গ্রেড রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া পে-স্কেল পর্যালোচনা কমিটি প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে শেষ পর্যন্ত তাও থাকছে না। এর বিপরীতে বিকল্প একটি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামোতে যে ২০টি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছিল তা বহাল থাকছে। গ্রেডের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পে-স্কেল মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। এর আগে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তিনি একসঙ্গে রাখার পক্ষে নন। এর মধ্যে যে কোনো একটি বাদ দেব। বিষয়টি নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি সুবিধা বাদ দিয়েই চূড়ান্ত করা হয়েছে পে-স্কেল। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পে-স্কেল নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও করেন।

পে-কমিশন ও সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দিয়েই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাপের মুখে সরকার নিজের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উল্লিখিত দুই সুবিধা বহাল রেখে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে প্রতি বছর ৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুবিধা বাদ দেয়া হয়। পাশাপাশি এই দুই সুবিধা বাদ দিয়েও আরেকটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। উভয় প্রতিবেদন সারসংক্ষেপ আকারে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত ফাইলটি চলে আসায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়। সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। এটি ছেড়ে দেয়া হবে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ওপর। আজ উপস্থাপন করা হলে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, অষ্টম জাতীয় পে-কমিশন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের সুপারিশ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। নতুন বেতন পে-স্কেল পর্যালোচনা সংক্রান্ত সচিব কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে কমিশনের সুপারিশ বহাল রাখেন। ১৪ মে অর্থমন্ত্রীর কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

নতুন পে-স্কেলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল হচ্ছে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সচিবালয়সহ সারা দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনগুলোর (নন-ক্যাডার) পক্ষ থেকেও এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। এদিকে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দিলে প্রশাসনে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে এমন আশংকার কথা জানিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিপোর্ট দিয়েছে। এরপরও সরকার টাইম স্কেল ও সিলেকশন বাদ দিয়ে নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে তোলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু নানামুখী দাবির মুখে সরকার কিছুটা নমনীয় হয়। এ নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বেতন স্কেল : গ্রেড-এক সচিবের বেতন ৭৫ হাজার টাকা, গ্রেড-দুই ৬৪ হাজার ৬০০ টাকা, গ্রেড-তিন ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রেড-চার ৫০ হাজার টাকা, গ্রেড-পাঁচ ৪৩ হাজার টাকা, গ্রেড-ছয় ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রেড-সাত ২৯ হাজার টাকা, গ্রেড-আট ২৩ হাজার টাকা, গ্রেড-নয় ২২ হাজার টাকা, গ্রেড-দশ ১৬ হাজার টাকা, গ্রেড-এগার ১২ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রেড-বারো ১১ হাজার ৩০০ টাকা, গ্রেড-তের ১১ হাজার টাকা, গ্রেড-চৌদ্দ ১০ হাজার ২০০ টাকা, গ্রেড-পনেরো ৯ হাজার ৭০০ টাকা, গ্রেড-ষোল ৯ হাজার ৩০০ টাকা, গ্রেড-সতেরো ৯ হাজার টাকা, গ্রেড-আঠারো ৮ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-উনিশ ৮ হাজার ৫০০ এবংগ্রেড-বিশ (সর্বনিু) ৮ হাজার ২৫০ টাকা। কমিশন সর্বনিু বেতন ৮ হাজার ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। এক্ষেত্রে পে-স্কেল পর্যালোচনা কমিটি আরও ৫০ টাকা বাড়িয়েছে।

টাইম স্কেল : সাধারণত কোনো চাকরিজীবী ১৫ বছরেও কোনো কারণে পদোন্নতি না পেলে সেক্ষেত্রে ৮ বছর পর ১টি, ১২ বছর পর ১টি এবং ১৫ বছর পর আরও ১টি করে মোট ৩টি টাইম স্কেল পেয়ে থাকেন। প্রতিটি টাইম স্কেল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর বেতন স্কেল এক ধাপ ওপরে উন্নীত হয়। এটি টাইম স্কেল নামে পরিচিত। এতে করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতি না পেলেও আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে সরকারি চাকরির ৬৫ শতাংশই ব্লকপোস্ট রয়েছে। যাদের পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ নেই। তারাই মূলত এর সুবিধাভোগী। ১৯৮১ সালে ক্যাডার সার্ভিসে টাইম স্কেল চালু হলেও ১৯৮৩ সালে তা নন-ক্যাডার পদেও চালু হয়।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *