সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সংসদ সদস্য ভবনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা চলছে। এসবের প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগও করেছিলেন ভবনের বাসিন্দারা। ‘সংসদ কমিটি’তেও এ নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয় সংসদ সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন করে সমস্যা সমাধানের জন্য সুপারিশ করবেন। এ লক্ষ্যেই সোমবার কয়েকজন সংসদ সদস্য ভবন পরিদর্শনে যান এবং পরিদর্শনকালেই তারা লিফটে আটকা পড়েন। এর মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের চারজন সংসদ সদস্যও ছিলেন।
পরিদর্শনে কমিটির সদস্য বেগম সাগুফতা ইয়াসমিন, পঞ্চানন বিশ্বাস, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তালুকদার মো. ইউনুস ও নাজমুল হক প্রধান অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ আমন্ত্রণে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন হুইপ মো. শহীদুজ্জামান সরকার, মো. নূরুল ইসলাম ওমর, মো. ছলিম উদ্দীন তরফদার ও উম্মে রাজিয়া কাজল।
সূত্র জানায়, দশম জাতীয় সংসদের ‘সংসদ কমিটি’র সপ্তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সকালে কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এক থেকে ছয় নম্বর সংসদ সদস্য ভবন পরিদর্শনে যান। তাঁরা এসব ভবনে বসবাসরত সদস্যদের সমস্যা শুনেন। এ সময় পরিদর্শনকারী দলের সাত সদস্য তিন নম্বর ভবনের লিফটে করে ওপরে উঠতে গেলে অষ্টম তলায় গিয়ে লিফটে আটকা পড়েন। প্রায় ১০ মিনিট তাঁরা সেখানে আটকে ছিলেন। এ সময় কেউ কেউ ‘নার্ভাস’ হয়ে পড়েন। পরে লিফটম্যানের সহায়তায় তাঁরা বের হয়ে আসেন।
পরিদর্শনের পর কমিটির সদস্যরা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ‘মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এক থেকে ছয় নম্বর সংসদ সদস্য ভবনে পুরাতন লিফট পরিবর্তন করে অতি দ্রুত নতুন লিফট লাগানোর জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর-পিডব্লিউডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে কমিটির সদস্য নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘নিচতলা থেকে অষ্টম তলায় যাওয়ার পথে লিফটে আমরা সাতজন আটকে যাই। লিফটের ভেতরে আমরা ১০ মিনিটের মতো আটকে থাকি। এ সময় ভেতরে আমরা সবাই ঘামতে থাকি। আর নারী এমপিরা তো কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এক সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই ভবনের লিফট আটকে পড়ার সমস্যা কমিটিতে জানিয়ে আসছিলাম। আর আজ খোদ কমিটির সদস্যরা এতে আটকে পড়লেন।’
তিন নম্বর ভবনের বাসিন্দা ও পরিদর্শন দলের সদস্য সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৭ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার বলেন, আমরা যারা এই ভবনে বসবাস করি তাদের জন্য এমন ঘটনা নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার। আমরা কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমার বাচ্চারা সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় প্রায় প্রতিদিন আটকে যায়। ওরা খুব ভয় পায় লিফটে উঠতে। কিন্তু অভিযোগ জানিয়েও কেনো লাভ হচ্ছিল না। আর আজ কমিটির সদস্যরা এসে আটকে গেলেন। তাই কমিটি দ্রুত বিষয়টি সুরাহা করার নির্দেশ দিয়েছে।
আজকের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার বলেন, ‘আগে একবার একা আটকে গিয়েছিলাম। ওই সময় ঘেমে-ভয়ে খুব অস্থির হয়ে পড়েছিলাম। যেহেতু আমার অভিজ্ঞতা আছে তাই আমি কম আতঙ্কিত ছিলাম। তবে আমরা বেশ কয়েকজন থাকাতে কিছুটা স্বস্তি লেগেছিল। তবে অন্য কয়েকজন আপা কিছুটা নার্ভাস ছিলেন।’
‘আমাদের লিফটে নামজুল হক প্রধান, কাজল আপা, ডালিয়া আপা, জাতীয় পার্টির লিলি চৌধুরীসহ সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন। উপরে গিয়ে লিফট না খোলাতে পরে আমরা নিচে কল দিয়ে লিফট নিয়ে আসি। এর পর লিফটম্যান এসে তা খোলে।’ যোগ করেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৭ এর সংসদ সদস্য।


