ভারতে মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিকরা ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পাবেন। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা কোনো কাজ ছাড়া ও ভিসা নিয়ে ভারতে গেছেন এমন মানুষরা এই সুযোগ পাবেন। সোমবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে আসা হিন্দুসহ অন্য ধর্মাবলম্বীরা আর অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যদি কেউ বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে ভারতে প্রবেশ করে থাকেন, তাদের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও তারা মনে করলে এ দেশে থেকে যেতে পারবেন। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কেউ এ দেশে প্রবেশ করে থাকলেও তাদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না।
মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯২০ সালের পাসপোর্ট আইনের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, ভারত সরকারের কাছে খবর রয়েছে যে, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, পার্সি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। আদের কাছে পাসপোর্ট-ভিসাসহ অন্য বৈধ কাগজপত্র নেই। যাদের কাগজপত্র আছে ইতিমধ্যে তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এসব লোকদেরই ভারতে থাকতে দেয়া হবে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আসারা এই সুযোগ পাবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, আগামী বছর আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে সোচ্চার ছিলেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, নয়াদিল্লি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


