বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

১৫ আগস্ট কেক কেটে খুনিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে: শেখ হাসিনা

PM-hasina-02১৫ আগস্ট কেক কেটে মিথ্যা জন্মদিন পালন করে খুনিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৫ আগস্ট কারো জন্মদিন হতেই পারে। এদিন জন্মদিন হবে না সেটা তো না। কিন্তু যার জন্ম দিন না, সে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে মিথ্যা জন্মদিন ঘোষণা দিয়ে, বিশাল বিশাল কেক যত বয়স তত বড় কেক কেটে উৎসবে পরিণত করে খুনিদের উৎসাহিত করা, খুনকে, হত্যাকে স্বীকৃত দেওয়ার মতো বিকৃত মানসিকতাও দেখছি। মিথ্যা জন্মদিনের বিষয়ে দেশের মানুষ আজ বুঝতে পেরেছে। এ ধরনের ঘটনাকে সাধারণ ধিক্কার দিচ্ছে।

বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন-উত্তর পর্বে আব্দুল মতিন খসরু, আব্দুস শহীদ ও মো. রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার জন্য বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। বিকৃত করা হয়েছে ইতিহাস। ১৯৭৫ সালের পর যারা জন্ম নিয়েছিল, যারা ছোট ছিল তারা ভুল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরায় সেই ভ্রান্তি মানুষ ভুলে যেতে বসেছে। এবার ১৫ আগস্ট যে ব্যাপকভাবে উদপাযন হয়েছে এটা অভুতপূর্ব। এতেই বোঝা যায় বঙ্গবন্ধু মানুষের মনের মনিতে ঠাঁই করে নিয়েছেন। আর কোনো চক্রান্তই শুধু দেশ নয়, পৃথিবীর কোথা থেকেও বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারবে না’।

ব্যক্তিকে হত্যা করা যায় আদর্শকে নয় উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আদর্শকে হত্যা করা যায় না। জাতির পিতাকে শুধু হত্যা নয়, হত্যা করে তার নাম মুছে ফেলে ইতিহাস বিকৃত করে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। এক সময় ছিল আমরা ১৫ আগস্ট কোনো আয়োজনই করতে পারতাম না। এক সময় জাতির পিতার নাম ছবি সবই নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু সত্যকে কেউ নির্বাসিত করতে পারেনি, সত্যটা উদ্ভাসিত হবেই, হয়েছে।

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার জীবনে এই অভিজ্ঞতা আছে যখন বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে বঙ্গবন্ধুর নাম ছিল না, তখন কিন্তু পৃথিবীর অন্যদেশে বাংলাদেশের ইতিহাস পাঠ করা হলেই বঙ্গবন্ধুর নাম থাকতো, ছিল। তবে ভবিষতে সেই দিন আর আসবে না। সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর নাম আছে, তাই নতুন করে আর আইন করা লাগবে না।

আরও পড়ুন