বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মা-ছেলে হত্যার দায়ে ২ জনের ফাঁসি

নারায়ণগঞ্জে চার বছর আগে এক নারীকে ধর্ষণ করার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ছেলেসহ তাকে হত্যার দায়ে দুইজনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া মামলার আরেক আসামিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে আদালত তিন আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মিয়াজী শহীদুল আলম চৌধুরী মঙ্গলবার এই রায় দেন।

ফাঁসির আসামিরা হলেন- আবুল হোসেন ওরফে কাশেম ও দুলাল হোসেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন- বাবুল হোসেন। এদের মধ্যে দুলাল হোসেন পলাতক রয়েছেন বলে এ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম জানান।

মামমলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ৫ মার্চ বিকালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দড়িগাঁও এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় ২৫/২৬ বছরের এক তরুণী তার ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চাইতে আসেন। এসময় ফাঁসিরদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল হোসেন (বামে), পলাতক দুলাল হোসেন ও কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাবুল হোসেন ওই নারীকে ১০ টাকা দিয়ে স্থানীয় শ্মশানঘাট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে কাশেম ও বাবুল তাকে ধর্ষণ করে।

দুলাল হোসেন এ ঘটনা দেখেন এবং বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে বলে ধর্ষণকারীদের সতর্ক করে দেন। এরপর কাশেম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ওই নারীকে হত্যা করে। এসময় শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে দুলাল হোসেন কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সেও মারা যায়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামিরা লাশ দুটি দড়িগাঁও কবরস্থান এলাকার পুরনো কবরের গর্তে মাটি চাপা দিয়ে রাখে। পরে স্থানীয়রা লাশ দুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম জানান, লাশ উদ্ধারের পর আড়াইহাজার থানা পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। আসামি বাবুল হোসেন গ্রেপ্তার হলে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ১০ জনের সাক্ষ্য শুনে বিচারক মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন