সমালোচনার মুখে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরীর নামে গঠিত ট্রাস্ট ফান্ড বাতিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় বলে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ট্রাস্ট ফান্ডটি উইথড্র করা হয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিন্ডিকেট সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একজন সদস্য বিষয়টি সিন্ডিকেটে তুললে সবাই এর বিরোধিতা করেন। পরে ট্রাস্ট ফান্ডটি বাতিল করা হয়।”
শামসুন নাহার হলে ছাত্রী নির্যাতনের পর আন্দোলনের মুখে ১৩বছর আগে পদত্যাগী উপাচার্য আনোয়ারউল্লাহর নামে ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সময়ের ছাত্ররা।
বিষয়টি নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর ‘সেই আনোয়ারউল্লাহর নামে ঢাবিতে ট্রাস্ট ফান্ড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়, যাতে ২০০২ সালের ওই ঘটনায় নির্যাতিত কয়েকজন ছাত্রী ও আন্দোলনকারী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
এরপর অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ চলতে থাকে। ট্রাস্ট ফান্ড বাতিলের দাবিতে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচিরও ঘোষণা এসেছিল।
এরইমধ্যে মঙ্গলবার রাতে ওই ট্রাস্ট ফান্ড বাতিল করল সিন্ডিকেট।
শামসুন নাহার হলে নির্যাতনের ঘটনার ১৩ বছর পূর্তিতে এসে পদত্যাগী সেই উপাচার্যের নামেই গত ৫ অাগস্ট ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যে প্রতিবেদন গত ১৫ অাগস্ট ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বার্তায়’ প্রকাশিত হয়।
ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের হাতে ছয় লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর ছেলে মিতুল আনোয়ার চৌধুরী।
“ট্রাস্ট ফান্ডের আয় থেকে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিএসএস (সম্মান) এবং মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত দুইজন শিক্ষার্থীকে ‘অধ্যাপক আনোয়াউল্লাহ চৌধুরী স্বর্ণপদক’ প্রদান করা হবে।”
অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়াসহ কয়েকটি দাবিতে ২০০২ সালের জুলাইয়ে আন্দোলন শুরু করেন হলের সাধারণ ছাত্রীরা।
আন্দোলনের মধ্যে ২৩ জুলাই রাতে হলের প্রাধ্যক্ষ কার্যালয়ের সামনে সাধারণ ছাত্রীদের অবস্থান চলাকালে সেখানে সম্মিলিত হামলা চালায় পুলিশের পুরুষ সদস্য ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
তখন পুলিশী নির্যাতনের বিষয়ে ‘কার্যকর পদক্ষেপ’নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহর বিরুদ্ধে।
‘তার নির্দেশেই’ ছাত্রীদের উপর হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে পরবর্তীতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন শিক্ষকও।
টানা আন্দোলনের এক সপ্তাহের মাথায় ওই বছরের ১ অাগস্ট উপাচার্য পদ ছাড়তে বাধ্য হন অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী।
ওই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর ২৩ জুলাইকে ‘শামসুন নাহার হল নির্যাতন দিবস’ হিসাবে পালন করা হয়ে থাকে।


