টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে ২ জন নিহত ও ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আরও অন্তত শতাধিক। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঘটা এই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় হাসপাতালে মারা গেছেন।
নিহতরা হলেন- কালিহাতী এলাকার শামীম ও ফারুক। তাদের মধ্যে ফারুকের বাড়ি সাতুটিয়া আর শামীমের বাড়ি সালেঙ্গা। শামীম টাঙ্গাইল মেডিক্যালে ও ফারুক হোসেন কালিহাতী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মারা যান।
জানা গেছে, কালিহাতীতে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর প্রেমিকের মাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার সড়ক অবরোধ করে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ। এরই জের ধরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করে। পরে তারা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে রাখে। পুলিশ অবরোধ ওঠাতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়ে। সে সময় তারা এক পুলিশ সদস্যকে আটক করে মারধর করতে থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে অবরোধকারীদের ধাওয়া দেয়। সে সময় পুলিশ অবরোধকারীদের হঠাতে লাঠিপেটা, প্রায় ৬০ রাউন্ড গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে এক নারীসহ ছয় জন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া আরো প্রায় অর্ধশত আহত হয়।
গুলিবিদ্ধদের কালিহাতী স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও টাঙ্গাইল মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইল মেডিক্যাল ও কালিহাতী স্বাস্থ্যকেন্দ্র দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কালিহাতি উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামের শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম রোমা ঘাটাইল উপজেলার নুরুল ইসলামের ছেলে আল আমিনকে তার বাড়িতে ঢেকে নেয়। তারা দাবি করে আল আমিনের সঙ্গে রোমার স্ত্রীর সম্পর্ক আছে। এই অজুহাতে তাকে আটকে রাখে পরে তার মা ছাহেরাকে ডেকে নিয়ে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দিগম্বর করে ঘরে আটকে রাখা হয়। হাফিজুর ও রোমা মা ও ছেলেকে অশ্লীল কাজ করতে বাধ্য করে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামবাসী পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে এই দিনই ছালেহা বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তার পর থেকেই গত দুই দিন যাবৎ হাজার হাজার নারী পুরুষ এলকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। মামলার দুই আসামি হাফিজুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম রোমাকে গ্রেপ্তার করেও পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রনে আনতে পারেনি। নির্যাতিত মা ও ছেলে ঘাটাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


