প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, রাজনীতির নামে অগ্নিসন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের রাজনৈতিভাবে পরাজিত করে নির্বাসনে পাঠানোর আগে পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনতার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আরও বলেন, একাত্তরে দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞ চালানো চক্রই পঁচাত্তর এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির উপর বারংবার ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এরাই ২০০১ সালে নির্বাচনের পর গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ভোলা ও বরিশালের বেশ কয়েকটি এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষকরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করেছিল, ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরা পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে পর্যন্ত হত্যা করেছে। এই অশুভ শক্তিকে যত দিন পর্যন্ত না সম্পূর্ণরুপে পরাজিত করে রাজনৈতিক নির্বাসনে পাঠানো না যাবে, তত দিন পর্যন্ত জনতার আন্দোলন চলবে।
রোববার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ‘বিএনপি-জামাতের অগ্নি-সন্ত্রাস বর্বরতার ১০০ দিন’-এর নির্যাতনের চিত্র সংবলিত অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তৃতায় এইচ টি ইমাম একথা বলেন।
নির্র্বাচন ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাসের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, ‘২০১৩’ তে এসে এবার বিএনপি যে তান্ডব শুরু করলো। এরকম তান্ডব আমরা কখনো দেখিনি, কখনো চিন্তাও করতে পারিনি।
তিনি বলেন, সেসময় ‘রক্তাক্ত বাংলাদেশ’ অ্যালবাম বের করেছিলাম। এটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় সবাই দেখেছে। দেখে তারা বলেছে, মানুষ এই রকম নির্মম নৃশংস হতে পারে। এখন সন্ত্রাসের উপরে ফটো অ্যালবাম বের করছি। এটিই আমাদের শেষ নয়, এমন উদ্যোগ চলতে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি-জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,এরা অগ্নিসন্ত্রাসী, জনগণের সামনে এরা কোনদিন টিকবে না। জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা এগিয়ে চলেছি, এগিয়ে যাবো।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, রাজনীতির নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার যে মহোৎসব বাংলাদেশে তা বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে হয়েছে। পৃথিবীর কোন দেশে রাজনীতির নামে এমন বীভৎসতা, ঘটনা সমসাময়িককালে ঘটে নাই। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আরো বক্তৃতা করেন- তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কার্যনির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।


