বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে মিডিয়াকে দমানো যাবে না’

নঈমহয়রানিমূলক মামলা দিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়াকে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রকাশিত খবর সারা বাংলাদেশের ফেডারেশন নিয়ে মামলার বাদীর নাম কোথাও উল্লেখ নেই। অথচ তার এ ধরনের মামলা করা সন্দেহজনক। ভিন্ন কোনো উদ্দেশে হয়তো মামলাটি করা হয়েছে। আজ রোববার নড়াইলের আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম এসব মন্তব্য করেছেন।

সম্পাদক নঈম নিজাম পুলিশের আচরণ রহস্যজনক উল্লেখ করে বলেন, “খবরে উল্লিখিত ঘটনার প্রেক্ষাপট সারা বাংলাদেশ হলেও নড়াইলের পুলিশ মাত্র ৪ কার্যদিবসে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে, পুলিশের এহেন আচরণ রহস্যজনক।

মানহানির মামলায় রোববার নড়াইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক মুহম্মদ জাকারিয়্যার আদালতে জামিনের আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম বলেন, ১০ হাজার টাকার জামিননামায় সম্পাদক নঈম নিজামকে আদালত জামিন দিয়ে ২৬ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক ও প্রকাশকের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এই আদালত।

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম নড়াইলের যা্ওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বস্তরের জনগণ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সকলে তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় তারা এ ধরনের মামলার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নড়াইলে তার সঙ্গে ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দীকি, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, বৈশাখী টেলিভিশনের হেড অব নিউজ অশোক চৌধুরী, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবীর টুকু, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, যশোরের সিনিয়র সাংবাদিক কালের কণ্ঠের ফখরে আলম, এসএ টিভির অ্যাসাইনমেন্ট নিউজ ওয়াহিদ মিল্টনসহ বিপুল সংখ্যক ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মী।

নঈম নিজামের হাজিরাকে কেন্দ্র করে নড়াইল আদালত চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৮ মে তারিখে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ১০ম পৃষ্ঠায় একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়, যার শিরোনাম ছিল “ফোরামের দাপটে অস্থির ক্রীড়াঙ্গণ”। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয় জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু ২০১২ সালের ৩ জুন বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের নামে নড়াইল সদর আমলি আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন।

আদালত পুলিশের ওপর তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ তদন্ত শেষে গত বছরের ২ এপ্রিল তারিখে আসামিদের সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। মামলার আসামিরা নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় রোববার আদালত এই রায় দেন।

আরও পড়ুন