অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের সরাসরি গুলি ছুড়তে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একটি কথা মনে রাখতে হবে- যারা জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলে কিংবা সরকারি সম্পদ ধ্বংসের চেষ্টা করে, তাদের প্রতিহত করতে যা যা করা দরকার সবই করবেন। প্রয়োজন হলে সরাসরি গুলি করুন। দায়-দায়িত্ব সব আমি নেব।”
রোববার ফরিদপুরে এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির ও গোপালগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জাহিদ হাসান।
এর আগে ডিআইজি নূরুজ্জামান শনিবার কালিহাতী গিয়ে গুলিবর্ষণকারী পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পরে তিন এসআই ও চার কনস্টেবলকে বরখাস্তও করা হয়। এর একদিন পরেই ডিআইজি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গণে কমিউনিটি পুলিশিং ও আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সরাসরি গুলির নির্দেশ দিলেন।
এসময় আসন্ন ঈদ উপলক্ষে রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজদের কোনো ধরনের ছাড় না দিতে বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নূরুজ্জামান বলেন, জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। তাদের টাকায় আপনাদের অস্ত্র কেনা হয়। তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।
হেফাজতে ইসলামীর সন্ত্রাস ঠেকাতে পুলিশের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ডিআইজি নূরুজ্জামান বলেন, “হেফাজত ঢাকা অবরোধের সময় ব্যাংক লুট ও সচিবালয়ে নাশকতা করতে চেয়েছিল। পুলিশ সে অপতৎপরতা ব্যর্থ করে দেয়।”
আগের সরকারগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, “আমি মুক্তিযোদ্ধা ও গোপালগঞ্জের লোক হওয়ায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। যথা সময়ে আমাকে পদোন্নতি দিলে আমি এখন আইজি থাকতাম।”
শুক্রবার টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে মোট চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি পুলিশের গুলিতে নিহতদের ছবি-ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।


