বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মূর্তিমান আতঙ্ক ওসি আশিকুর ক্লোজড

OC-Ashikur_Rahmanওসি আশিকুর রহমান। রাজশাহীর লোকজনের কাছে মূর্তিমান আতংক তিনি। নিরীহ লোকজনদের থানায় ধরে এনে নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন। তার চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন রাজশাহীর বহু ব্যবসায়ী। এমনকি বাদ যায়নি স্কুলশিক্ষার্থীও। গোটা রাজশাহী অঞ্চলের মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার দহরম-মহরমের কথা অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। তিনি আলোচিত রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আশিকুর রহমান।

স্থানীয়দের কাছে ডিবি আশিক নামেই পরিচিত। তিনি এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, তার দাপটে অনেক বাঘা বাঘা পুলিশ কর্মকর্তাও ভড়কে যেতেন। তবে বেপরোয়া এই ডিবি কর্মকর্তাকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আরএমপি কমিশনারের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার প্রত্যাহারের সংবাদে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। অনেকে পুলিশ কমিশনারের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এবার ডিবি আশিক সাইজ হলেন।

রোববার ঢাকা থেকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, আশিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্য, মামলা দিয়ে হয়রানি, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে অর্থ আদায়, বিভিন্ন স্পট থেকে মাসোয়ারা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাকে ক্লোজড করা হল। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরএমপির একটি সূত্র জানায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ডিবি কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ পুলিশ ইন্সপেক্টর তোফাজ্জল খানকে মারধর করেন ইন্সপেক্টর আশিক। ডিবি আশিক শিবগঞ্জ থানায় কর্মরত অবস্থায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এ কারণে তিনি জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা দমনে বারবার ব্যর্থ হন। আশিকুর রহমানের প্রত্যাহারের বিষয়ে আরএমপি কমিশনার শামসুদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, প্রশাসনিক কারণে তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

আরও পড়ুন