টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহতের ঘটনায় বাহিনীর কর্তাদের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বলেছেন, সন্তানের সামনে মায়ের শ্লীলতাহানি করার ঘটনায় বিক্ষোভ হওয়া তো স্বাভাবিক। জাতি হিসাবে এটা (বিক্ষোভ) আমাদের গর্বের বিষয়, কিন্তু আপনি গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালালেন। এখন পর্যন্ত চারজন মারা গেছে। কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছে তা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে সুরঞ্জিত বলেন, “সাত-আটশ জনকে আসামি করে মামলা হল, এটা কী জন্য? আর কয়েকজন পুলিশকে ক্লোজ করে দিলেন- এতেই শেষ হয়ে গেল! আসামি তো হবে পুলিশ।
“এখন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি বলছেন, ‘আপনারা গুলি করেন, দায়িত্ব আমার’। আপনার ওসি ওই লোকের বাড়ির ভাড়াটিয়া বলে কি এ ধরনের কথা আসছে? বিষয়টা কী।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার প্রাপ্তি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনায় সুরঞ্জিত আরো বলেন, এভাবে মানুষ মেরে আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের দুর্নাম করবেন, তা তো হতে পারে না।
উল্লেখ্য, ছেলের সামনে মাকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকালে কালিহাতী উপজেলা সদরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের সময় গুলিতে তিনজন নিহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় মৃত্যু হয় আরেকজনের। ঘটনা খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কালিহাতী ও ঘাটাইলের ওসিসহ নয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে প্রায় ৯০০ জনকে আসামি করে দুটি মামলা হয়েছে।
এদিকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা প্রয়োজনে আবার নেওয়ার দাবি জানিয়ে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, হয় প্রমাণ করতে হবে, ফাঁস হয়নি। নয়তো বলতে হবে, প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে এবং পুনরায় পরীক্ষা নেব, দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মতো ‘অভিজ্ঞ রাজনীতিকের নেতৃত্ব’ এই ‘উদ্বিগ্ন অবস্থা থেকে’ জাতিকে দ্রুত ‘মুক্ত করবে’ বলে আশা সুরঞ্জিতের।


