বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নানা দোষে ৭১ লাখ সিম বন্ধ

Sim_বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এর আগে ৭১ লাখ সিমকার্ডের সংযোগ বন্ধ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা আদায় করেছে সরকার। চলতি মাসে মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে সিম নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য আরও কঠোর নির্দেশ দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এরপর তাকে টেলিফোনে হুমকি দিয়ে সিম পুনঃনিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধের কথা বলা হয়।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে নিবন্ধন যাচাই কার্যক্রম, চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮৭ লাখ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত অন্তত ৬০ লাখ সিমের তথ্য জমা হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ বা এনআইডি কর্তৃপক্ষের কাছে। এগুলো যাচাইয়ের কাজ চলছে। এতে দেখা গেছে ৬৫-৭০ শতাংশ নিবন্ধনই ভুয়া। একজনের জাতীয় পরিচয়পত্রেই সাত হাজারের বেশি সিম বিক্রি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি এনআইডি নম্বর দিয়ে ৬ অপারেটরের প্রায় ৭ হাজার সিম ইস্যু করা হয়েছে। আরও ৫০টি ভুয়া এনআইডি নম্বর দিয়ে ব্যবহার হচ্ছে কমপক্ষে ১ লাখ সিম। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ৫০০ এনআইডি নম্বর দিয়ে অগণিত সিম ইস্যু করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সকালের খবরকে বলেন, ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সঠিকভাবে নিবন্ধন না থাকলে অপারেটররা ওই গ্রাহকের মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠাবেন সঠিকভাবে নিবন্ধনের জন্য। এজন্য তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। তবে তিনি কোনো সাড়া না দিলে তিন মাস পর ওই সিম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। তবে পরে নিবন্ধনের মাধ্যমে আবারও তা চালু করা যাবে। পাশাপাশি যারা সিম বিক্রেতা রয়েছেন তাদেরও সঠিক নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, সিম নিবন্ধন যাচাই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আমাকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে আমি এসবকে কোনো পাত্তা দিচ্ছি না। বরং আরও দ্বিগুণ উত্সাহে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাব। অনিবন্ধিত সিম বন্ধে আমি যে উদ্যোগ নিয়েছি, তা এ দেশ ও জাতির স্বার্থে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি। মাত্র তিন মাস হল ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে এসেছেন তারানা হালিম। এর মধ্যেই ভুয়া সিম নিবন্ধনের বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখছেন তিনি।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সকালের খবরকে জানান, অপারেটরদের পাঠানো ডেটার ভিত্তিতে সিম নিবন্ধন যাচাই চলছে। তবে অপারেটররা যতক্ষণ না কমিশনের সঙ্গে চুক্তি করবে ততক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফল জানানো হবে না। অপারেটরদের সঙ্গে চুক্তির অগ্রগতি কতদূর তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতদূর জানি সব অপারেটরের আবেদনের ভিত্তিতে কমিশন তাদের অনুমোদন দিয়েছে। তবে মাত্র দুটি অপারেটর নির্ধারিত ফিস জমা দিয়েছে। নির্ধারিত ফিস জমা দেওয়ার পরই এ বিষয়ে চুক্তি হবে।

এ পর্যন্ত যেসব সিমের নিবন্ধন যাচাই হয়েছে তাতে কী ধরনের অসঙ্গতি দেখা গেছে? জবাবে ইসি সচিব বলেন, এনআইডি অনুবিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদেরকে বিস্তারিত জানায়নি। তবে তারা আমাকে যেসব তথ্য জানিয়েছেন তা খুবই খারাপ অবস্থা। অর্ধেকের বেশি নিবন্ধনই ভুয়া। এক ভুয়া পরিচয়পত্র দিয়েই কয়েক হাজার সিম নিবন্ধন করা হয়েছে। এমন আরও বেশকিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তবে সব সিমের ডেটা এখনও অপারেটররা সরবরাহ করেনি। সব ডেটা পাওয়া গেলে পরিস্থিতি হয়তো আলাদাও হতে পারে। সব কাজ শেষে অফিসিয়ালি এটা জানানো হবে।

সিম নিবন্ধন যাচাই করার সক্ষমতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক দিনে অসংখ্য সিম যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। অপারেটররা তথ্য দিলেই তা দ্রুত যাচাইয়ের সক্ষমতা এনআইডি কর্তৃপক্ষের আছে।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল দুপুরে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করা হলে তারা কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীনও তার দফতরে ছিলেন না। পরে তার মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

মোবাইল অপারেটর রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র ইকরাম কবীর সকালের খবরকে বলেন, খুব শিগগির তারা চুক্তির জন্য নির্ধারিত ফিস কমিশনে জমা দেবেন। এছাড়া যাচাইয়ের জন্য তারা পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের সিম নিবন্ধন তথ্য জমা দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। এমনকি শুক্র ও শনিবারও এ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকছে না।

অন্যদিকে সিমের সঠিক নিবন্ধন নিশ্চিত করতে বায়োম্যাট্রিক বা আঙুলের ছাপ পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে এ পদ্ধতি চালুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য প্রস্তুতি নিতে এবং যথাসময়ে তা কার্যকর করতে সব মোবাইল অপারেটরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নতুন সিম নেওয়ার ক্ষেত্রে নিবন্ধনের পর তা চালু হতে ৭২ ঘণ্টা সময় নেওয়া হবে। গ্রাহকের দেওয়া তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে তারপরই সিম সক্রিয় করা হবে।

আরও পড়ুন