সিলেটের কুমারগাঁওয়ে তের বছরের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় ১৩ আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা এ আদেশ দেন। ১ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ঠিক করেছেন বিচারক।
তের আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার ১০ আসামি এসময় আদালতে হাজির ছিলেন। এরা হলেন- সদর উপজেলার শেখপাড়ার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম, তার ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদ; পাভেল আহমদ, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আছমত উল্লাহ ও আয়াজ আলী।
এদের মধ্যে পলাতক কামরুল, শামীম ও পাভেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।
পিপি মফুর আলী বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া মুহিত আলম, ময়না চৌকিদার, শামীম আহমেদ ও তাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় লাশ গুম চেষ্টায় পৃথক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩৮ জনের জাবানবন্দি শুনবে আদালত।
আদালতে উপস্থিত রাজনের বাবা আজিজুর রহমান ছেলের হত্যার বিচার শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সৌদী আরবে থাকা আসামি কামরুলকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে খুঁটিতে বেঁধে ১৩ বছরের রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরাই নির্যাতনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে সারাদেশে সমালোচনা আর ক্ষোভের ঝড় উঠে। ঘটনার দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে গত ১৬ অাগস্ট তেরজনকে আসামি করে মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার।


