ঈদের আগে মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন।বুধবার সকাল থেকে সুনামগঞ্জে কভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসচাপায় তিন পথচারী, চট্টগ্রামে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনজন ও লরিচাপায় একজন, বরগুনায় পিকআপ ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুজন এবং টাঙ্গাইলে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন।
আগামী শুক্রবার বাংলাদেশের মুসলমানরা কোরবানির ঈদ উদযাপন করবেন। ছুটি শুরুর আগে শেষ কর্মদিবস বুধবার থেকেই ঢাকা ছেড়ে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন অনেকেই।
গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিচ্ছিন্ন যানজটের খবর পাওয়া গেছে। পাটুরিয়ায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ যানবাহন।
প্রতিনিধিদের পাঠানো দুর্ঘটনার খবর-
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গোগদ এলাকায় বাসচাপায় তিন নারী পথচারী নিহত ও অন্তত ১৫ বাস যাত্রী আহত হয়েছেন। সরাইল থানার ওসি আলী আরশাদ জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার গোগদ এলাকায় মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের শামছুন্নাহার বেগম (৪২), আজিজা বেগম (৪৫) ও আছিয়া বেগম (৪৫)।তারা ভিজিএফ কার্ডের চাল আনতে বাড়ি থেকে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন বলে স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন।
সরাইলে ওসি আরশাদ বলেন, সিলেটগামী এনা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি খাদে পড়ে যাওয়ার সময় তিন নারী পথচারীকে চাপা দিলে তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হন।
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা এলাকায় ছাতক-সিলেট সড়কে কভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন সকাল ৮টার দিকে। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। এরা হলেন- সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বুজনা গ্রামের মুহিবুর রহমান (৩৫), জামালগঞ্জের হরি (৪২) এবং হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার জলি রানী (৩২)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ছাতক থানার ওসি আশিক সুজা মামুন বলেন, তামাবিলগামী কভার্ড ভ্যানটির সঙ্গে ছাতকগামী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চার আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট সেতুর কাছে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে তিনজন নিহত এবং পতেঙ্গায় লরির চাপায় সাইকেল আরোহী এক বালক নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) আরেফিন জুয়েল জানান, বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে বহদ্দারহাট থেকে কাঠগড়গামী ১০ নম্বর রুটের একটি বাস দেওয়ানহাট সেতু পেরিয়ে অন্য একটি বাসকে ‘ওভারটেক’ করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়।
এ সময় বাসটি একটি টেম্পো, একটি রিকশা ও কয়েকজন পথচারীদের চাপা দিয়ে উল্টে গেলে তিনজন নিহত এবং অন্তত ছয়জন আহত হন।
নিহতদের মধ্যে মো. নাঈম (২২) ও জয়নাল আবেদীন (৬৫) নামে দুইজনের নাম পাওয়া গেছে। অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি।
আহতদের মধ্যে মো. জাহাঙ্গীর (২৬), মো. মহিউদ্দিন (৩০), ফয়েজ আহমদ (৪৫), নূর মোহাম্মদ (৫৫), টিকলু রুদ্র (১৬) ও ইব্রাহিম খলিলকে (৪৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে পতেঙ্গার স্টিল মিল বাজারের সামনে লরির চাপায় সাইকেল আরোহী এক বালক নিহত ও আরেকজন আহত হন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে।
নিহত রিয়াদের (১২) বাড়ি কাঠগড় শহরের নাজিরপাড়া বড়বাড়ি এলাকায়। আহত সাইফুল একই এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পতেঙ্গা থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, রিয়াদ ও সাইফুল দুটি সাইকেলে করে যাওয়ার সময় লরিটি তাদের পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই রিয়াদের মৃত্যু হয়। লরিচালককে আটক করা হয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক: ঈদযাত্রার পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে দুই আরোহী নিহত এবং কালিহাতিতে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
এলেঙ্গা মহাসড়ক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামরুজ্জামান রাজ জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার কান্দিলা এলাকায় মহাসড়কে ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী লেগুনার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই লেগুনার দুই আরোহী নিহত ও আরও তিন আরোহী আহত হন।
নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ডুবাইল এলাকার গোপাল ঘটকের ছেলে সুদেব ঘটক (৫৫) ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুলবুল (৪৫)।
আহত মোহাম্মদ (৪৯), পাপিয়া (৭) ও শামিউলকে (২৫) টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্য দুর্ঘটনাটি ঘটে কালিহাতি উপজেলার হাতিয়া বাইপাস এলাকায়, সকাল ৭টার দিকে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় থানার ওসি আখেরুজ্জামান জানান, সেখানে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর অন্তত ১২ বাসযাত্রীকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাহন দুটি মহাসড়কের উপরে আটকে থাকায় যানজট দেখা দেয়। পরে দ্রুত সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বরগুনা: বরগুনার আমতলী উপজেলায় পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঢাকা কলেজের এক ছাত্রসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আমতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় জানান, সকালে উপজেলার চুনাখালী এলাকায় আমতলী-পটুয়াখালী সড়কে এ দুর্ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- তালতলী উপজেলার কেশব লাল শীলের ছেলে ও ঢাকা কলেজের ছাত্র উজ্জল কুমার সহদেব এবং মোটরসাইকেল আরোহী মনির হোসেন সিকদার।
আহত আল-আমিনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার বাড়ি আমতলীর মহিষডাঙ্গা গ্রামে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, উজ্জল, মনির ও আল-আমিন মোটরসাইকেলে করে আমতলী আসছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই উজ্জল ও মনির মারা যান।


