ট্রেনের জন্য উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের থাকতে হয়েছে অপেক্ষায়। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোটামুটি ট্রেন সময় মতো ছাড়লেও দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় ‘লেট’। সন্ধ্যায় এই অবস্থা চার পাঁচ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যায়। এ পথের প্রায় প্রতিটি ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়েছে কয়েক ঘন্টা। আর যাত্রীদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষকেও।
বুধবার কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকালে স্টেশনে যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল সহনীয় মাত্রার। দুপুরের পর ধীরে ধীরে স্টেশনের অপেক্ষাগার, প্ল্যাটফর্ম, টিকেট কাউন্টার সর্বত্র লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
দুপুরের পর আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনগুলোতে দেখা মিলল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরজায় ঝুলে, ছাদে, দুই বগির মাঝে, যেখানেই স্থান হয়েছে জায়গা করে নিয়েছেন যাত্রীরা।
আসনবিহীন টিকেট কেটে বগির মেঝেতে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতেও দেখা গেছে অনেককে।
এবার ২৫ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন বাংলাদেশের মুসলমানরা। তিন দিনের ঈদের ছুটির আগে বুধবারই ছিল শেষ কর্ম দিবস। শেষ দিনে অফিসে হাজিরা দিয়েই অনেকে দুপুরের দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে।
রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে সকাল ১০টার দিকে ঢাকা ত্যাগ করে। সকাল ১১টা ২০ মিনিটের রাজশাহী এক্সপ্রেসও প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বে দুপুর ২টার দিকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এছাড়া রাজশাহী অভিমুখী দুপুর ২টা ৪০ নিমিটের সিল্কসিটি বিকাল ৪টার আগে কমলাপুর পৌঁছুবে না বলে দুপুর থেকে ঘোষণা আসতে থাকে। তবে কয়টা নাগাদ তা কমলাপুর ছেড়ে যাবে দুপুরে সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
অবশ্য সিলেটগামী জয়ন্তিকা দুপুর ১২টায়, কালনী এক্সপ্রেস বিকাল ৪টায় ঠিক সময়ে ঢাকা ছেড়ে গেছে। পূর্বাঞ্চলে চট্টগ্রাম অভিমুখী একমাত্র চট্টলা এক্সপ্রেস ছাড়তে দেরি হয়েছে একঘণ্টা।
এছাড়া কমলাপুর থেকে দেশের অন্যান্য গন্তব্যের ট্রেনগুলো প্রায় যথা সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রার কিছু ট্রেন বিলম্বে গেলেও এখন পর্যন্ত সূচি বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতি পড়েননি তারা। কেবল রাজশাহীগামী কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা বিলম্ব করছে।
বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী ভ্রমণ করছে। তারা হয়তো বিভিন্ন স্টেশনে নামতে গিয়ে ট্রেনের যাত্রাবিরতি লম্বা করে ফেলছে। রাজশাহীর ট্রেনগুলো কমলাপুরে পৌঁছাতেই বিলম্ব করছে। স্টশনে তেমন অপেক্ষা করছে না।
“ট্রেনগুলোতে যাত্রী উঠতে যতক্ষণ সময় লাগছে, ট্রেন থেকে নামতে সময় ব্যয় হচ্ছে এর চেয়ে প্রায় তিনগুণ। এটাই বাস্তবতা।”
সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী আয়েশা বেগম জানান, রাজশাহীগামী সিল্কসিটিতে বাড়ি যাবেন তিনি। ট্রেন দেরিতে জেনেও ঝামেলা এড়াতে দুই সন্তান ও স্বামীসহ স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন তিনি।
একটি বেসরকরি প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবী আরশাদুজ্জামান জানান, বাসে টিকিট না পেয়ে রাজশাহীর ট্রেনে সিরাজগঞ্জের গন্তব্যে যাচ্ছেন তিনি। দেরিতে এসে আসন বিহীন টিকেটেই যেতে হচ্ছে তাকে।
ঈদ উপলক্ষে আগাম টিকেটের যাত্রী ছাড়াও পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে চলাচলকারী লোকাল ট্রেনগুলোতে ভ্রমণ করছেন ঈদের ঘুরমুখো যাত্রীরা। সকাল থেকে স্টেশনের লোকাল কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে টিকেট প্রত্যাশী যাত্রীদের দীর্ঘ সারি।


