কোরবানি উপলক্ষ্যে হাটের পাশাপাশি অনলাইনেও বেচাকেনা হচ্ছে গরু-ছাগল। দেওয়া হচ্ছে হোম ডেলিভারি। এখন আর হাটে গিয়ে পশু কেনাবেচা নয়, অনলাইনেও দেদারসে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির গরু-ছাগল। ক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে পশুর বাহারি সব ছবি দিয়ে অনলাইন হাটের পসরা নিয়ে বসেছে বেশ কয়েকটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। তবে, কেনাবেচায় প্রতারণার বিষয়টি মাথায় রেখে চলতি বছর থেকে পশু হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা করেছে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো।
এ প্রসঙ্গে বিক্রয় ডটকমের পরিচালক (মার্কেটিং) মিশা আলী জানান, দেশী- বিদেশী দুই ধরনের গরুর বিজ্ঞাপনই বিক্রেতারা ওয়েবসাইটে পোস্ট করেছেন। তবে প্রি-অর্ডারের জন্য দেশী গরুই বাছাই করা হয়েছে। বিক্রয় ডটকমে ৫-১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রি অর্ডার অফার ছিল। এতে ক্রেতার কাছে তার কেনা গরু পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় বিক্রয় ডটকম। এ জন্য ঢাকার বাইরে থেকে গরু এনে হোম ডেলিভারির চার্জ তিন হাজার টাকা এবং ঢাকার মধ্য থেকে ঢাকার ভেতরেই ডেলিভারি চার্জ এক হাজার টাকা।
তিনি আরও বলেন, বিক্রয় ডটকম শ’ খানেক গরুর প্রি অর্ডার নিয়েছিল। এ বছর শুধু রাজধানীতে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর এর পরিধি বাড়ানো হবে। ক্রেতার নির্ধারিত তারিখেই তাদের দেওয়া ঠিকানায় পশু সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন সে জন্যই এ ব্যবস্থা।
পুরান ঢাকার কলতাবাজারের বাসিন্দা ইমরান শেখ বলেন, ‘একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কোরবানির জন্য গরুর বিজ্ঞাপন দেখলাম। আগে শুনলেও ব্যাপারটি নিজে যাচাই করিনি। এবার ছবি ও ভিডিও দেখে গরু পছন্দ হওয়ায় অর্ডার দেই। তারা আমার বাড়ি পর্যন্ত গরুটি পৌঁছে দিয়েছে। তবে আমার বাবা নিজে হাটে গিয়ে কোরবানির পশু কিনতে পছন্দ করেন বলে হাট থেকে আরেকটি গরু কিনতে হবে।’
‘আমার দেশ আমার গ্রাম’নামের একটি ই-কমার্স ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আমার দেশ ই-শপ ডটকম নামে ওয়েবসাইটে অনলাইনে কোরবানির গরু বিক্রির আয়োজন করেছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই তারা দেশের ও দেশের বাইরের ক্রেতাদের জন্য এ ব্যবস্থা চালু করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ম্যানেজার এনামুল হক বলেন, ‘গ্রামে কৃষকদের ঘরে পালিত দেশী গরু আমরা সাধারণত নির্বাচন করে থাকি। গরুর স্থির ও ভিডিও চিত্র ছাড়াও বিবরণ, উচ্চতা, সম্ভাব্য মাংস কতটুকু হতে পারে তা জানানো হচ্ছে ক্রেতাকে। অনলাইনে গরুটি পছন্দ ও দরদাম চূড়ান্ত হওয়ার পর তা ক্রেতার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ সুবিধাটি প্রবাসীদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রবাস থেকে কেউ অর্ডার করে দেশের যে ঠিকানায় পৌঁছে দিতে বলছে সেখানে আমরা পশু পৌঁছে দিচ্ছি। কেউ যাতে প্রতারণার শিকার না হন সে জন্য এ সুবিধা রাখা হচ্ছে।’
হোম ডেলিভারির ক্ষেত্রে ঢাকার বাইরে গরু পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিন হাজার টাকা এবং ঢাকার মধ্যে ডেলিভারির চার্জ দুই হাজার টাকা বলেও জানান তিনি।
এখনই ডটকম নামের একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আহসান বলেন, ‘কোরবানির পশু অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে কেনার পর বিক্রেতার কাছ থেকে সরাসরি ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি আমরা। আমাদের গ্রাহকরা যাতে প্রতারক চক্রের শিকার না হন সেজন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
অনলাইনে কেনাবেচায় প্রতারণার ব্যাপারে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপ-পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ বলেন, ‘সম্প্রতি অনলাইন শপিং জনগণের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলেছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই দরদাম ঠিক হওয়ায় বাজারে যাওয়ার অহেতুক ঝামেলা থেকে ভোক্তারা রক্ষা পাচ্ছেন। কিন্তু কিছু প্রতারক এই অনলাইন শপিং সাইটগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতারণার নিত্যনতুন ফাঁদ পাতছে। এ জন্য অনলাইনে শপিং করার সময় ক্রেতা-বিক্রেতাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পণ্য নেওয়া বা দেওয়ার সময় এমন স্থান নির্বাচন করা প্রয়োজন যে স্থানে মানুষের আনাগোনা বেশি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত পাওয়া যাবে। এমন অনেক অভিযোগ র্যাবের কাছে এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাবের বিশেষ গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত করে এবং আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সময় বেশকিছু প্রতারককে আইনের আওতায় এনেছে।’


