জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশন শুরুর আগেই আজ বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কের হোটেল ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়াতে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। তবে বৈঠকের পরপরই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে টুইটারে এর ছবি শেয়ার করা হয়। তাতে লেখা হয়, “প্রতিবেশী এবং একজন মূল্যবান বন্ধুর সঙ্গে বৈঠকের পর..।”
পরে মোদির আরেক টুইটে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আরেকটি ফলপ্রসূ বৈঠক। আমরা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি।”
এর আগেও ঢাকায় গত সেপ্টেম্বরে মোদির সফরের সময়ও চুক্তি ও বৈঠকের ছবি মোদির টুইট থেকেই বিস্তারিত ও আগে জানা যায়।
বৈঠকটি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না। গতকাল বুধবার বৈঠকটি নির্ধারণ করা হয়। জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে হঠাৎ করেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হল।
বৈঠক শেষে নরেন্দ্র মোদী এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পর দুই নেতার এটাই প্রথম সাক্ষাত।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর প্রমুখ।
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীও একই হোটেলে উঠেছেন।
এর আগে গত ১৯ অগাস্ট নয়া দিল্লিতে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল দুই নেতার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা ওই সাক্ষাতে বলেছিলেন, বিশাল বাজারকে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিবেশী এ দুই দেশ ‘বড় কিছু’ করতে পারে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে সে সময় দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
গত জুন মাসে নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরে দুই দেশের ঐতিহাসিক স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়, মীমাংসা হয় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ছিটমহল সমস্যার।
এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে দুই দেশের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে।
এবার কোরবানির ঈদের দিনটি প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রেই কাটবে। ঈদের সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে) লাগার্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তার শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে।
১১ দিনের এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করারও কথা রয়েছে।


